Ajker Patrika

সেহরি না খেলে কি রোজা হবে

মুনীরুল ইসলাম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৯
সেহরি না খেলে কি রোজা হবে
প্রতীকী ছবি

‘সেহরি’ শব্দটি আরবি ‘সাহর’ বা ‘সুহুর’ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ রাতের শেষাংশ বা ভোররাত। সেহরি অর্থ শেষ রাতের বা ভোররাতের খাবার। সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে আহার করা হয়, একে শরিয়তের পরিভাষায় সেহরি বলা হয়। রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। রমজান মাসে সেহরির সময় মুসলিম বিশ্বে এক অন্য রকম আবহ সৃষ্টি হয়। মসজিদের মিনারগুলো থেকে ভেসে আসে হামদ-নাত ও সেহরি খাওয়ার আহ্বান। তখন রোজাদার মুসলমানেরা সেহরি খাওয়ার জন্য জেগে ওঠেন।

হাদিস শরিফে সেহরি খাওয়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আহলে কিতাব আর আমাদের (মুসলমান) রোজার মধ্যে শুধু সেহরি খাওয়া পার্থক্য। অর্থাৎ তারা সেহরি খায় না, আর আমরা খাই।’ (সহিহ্ মুসলিম ও জামে তিরমিজি)

ক্ষুধা না থাকলে দুয়েকটি খেজুর খেয়ে অথবা একঢোক পানি পান করে নিলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে। অর্থাৎ শরীরে প্রফুল্লতা ও শক্তি থাকে।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)

সেহরি খাওয়ার সময় সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পানাহার করো—যতক্ষণ রাতের অন্ধকারের কালো রেখা থেকে প্রভাতের শুভ্র রেখা স্পষ্ট না হয়।’ (সুরা বাকারা: ১৮৭)

শেষ সময়ে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তাফসিরে কাশশাফের রচয়িতা সেহরির নিয়ম প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘পুরো রাতকে ছয় অংশে ভাগ করে শেষাংশে সেহরি খাও।’ রোজাদারের জন্য রাতের শেষাংশে সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খাওয়া সুন্নত। সুবহে সাদিক না হওয়া পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে। আর কোনো কারণে যদি সেহরি না খাওয়া যায়, তবুও রোজা হবে। রোজা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া আবশ্যক নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত