
সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। কিন্তু এই খবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি ক্রিপ্টোভিত্তিক জুয়ার প্ল্যাটফর্মে লক্ষাধিক ডলারের বাজি ধরা হয়েছিল মাদুরোর পতনের পক্ষে। আর এই রহস্যময় বাজি ঘিরেই এখন দানা বাঁধছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মার্কিন অভিযানের অতি গোপনীয় খবর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল? আর সেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই কি কেউ পকেটে ভরল কয়েক কোটি টাকা?
ক্রিপ্টোচালিত প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম ‘পলি মার্কেট’-এ মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি নিয়ে বাজি চলছিল। তথ্য বলছে, ২ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত মাদুরোর জানুয়ারি মাসের মধ্যে ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু মধ্যরাত পেরোতেই সেই সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলাতে থাকে। ৩ জানুয়ারি ভোরের দিকে মাদুরোর পতনের পক্ষে বাজির হার হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা দেন, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি বেনামি অ্যাকাউন্ট (যাতে কেবল কিছু সংখ্যা ও অক্ষর রয়েছে) মাত্র গত মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে যোগ দেয়। তারা মাত্র ৩২ হাজার ৫৩৭ ডলার বাজি ধরে অবিশ্বাস্যভাবে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকা) জিতে নিয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টটি থেকে কেবল ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত চারটি পজিশন নেওয়া হয়েছিল, এটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে যিনি বাজি ধরেছিলেন, তিনি এই অভিযানের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন।
আর্থিক সংস্কার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘বেটার মার্কেটস’-এর সিইও ডেনিস কেলহের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই বিশেষ বাজিটির ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এটি কোনো অভ্যন্তরীণ বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন সরকারের এমন কেউ বা এমন কোনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এই তথ্য ফাঁস করেছেন, যাঁরা অভিযানের খুঁটিনাটি জানতেন।
এই খবর সামনে আসার পর মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রিচি টরেস একটি নতুন বিল বা খসড়া আইন পেশ করেছেন। এই বিলের লক্ষ্য হলো, সরকারি কর্মচারীদের এমন কোনো প্রেডিকশন মার্কেটে বাজি ধরা নিষিদ্ধ করা, যদি তাদের কাছে সরকারের কোনো গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য থেকে থাকে।
আমেরিকায় ইদানীং স্পোর্টস বা রাজনীতির ফলাফল নিয়ে বাজির বাজার বা প্রেডিকশন মার্কেট দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনেও কয়েক শ কোটি ডলারের বাজি ধরা হয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনের আমলে এই বাজার কিছুটা কড়াকড়ির মধ্যে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। মজার বিষয় হলো, খোদ প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এই ধরনের কিছু প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা পদে রয়েছেন।
স্টক মার্কেটে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রেডিকশন মার্কেটে এখনো আইন ততটা কঠোর নয়। তবে এই ঘটনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হচ্ছে। কালশি নামক একটি প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা কঠোরভাবে সরকারি কর্মীদের এই ধরনের বাজি থেকে দূরে রাখার পক্ষপাতী।
এখন দেখার বিষয়, এই রহস্যময় কোটিপতি জুয়াড়ির পরিচয় শেষ পর্যন্ত সামনে আসে কি না, নাকি এটি ডিজিটাল জগতের আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা এক নিপুণ ষড়যন্ত্র হয়েই থেকে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
১৩ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
২১ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৪২ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
১ ঘণ্টা আগে