
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালেও ‘সবচেয়ে বড় ঢেউ’ এখনো আসেনি। স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) সকালে সিএনএনকে দেওয়া প্রায় ৯ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে ‘ভালোভাবেই আঘাত করছে’। তবে আরও বড় পদক্ষেপ সামনে রয়েছে।
সিএনএনের উপস্থাপক ট্যাপারকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কঠিনভাবে আঘাত করছি। সবকিছু খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমাদের বিশ্বের সেরা সামরিক বাহিনী আছে এবং আমরা সেটিই ব্যবহার করছি।’ তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হোক, তা তিনি চান না বলেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না এটা খুব বেশি দিন চলুক। আমি ভেবেছিলাম, চার সপ্তাহ লাগতে পারে। আমরা সময়সূচির চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছি।’
ইরানের জনগণকে সহায়তায় সামরিক হামলার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা করছি। তবে এই মুহূর্তে আমরা চাই—সবাই ঘরের ভেতরে থাকুক। বাইরে নিরাপদ নয়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এখনো তাদের ওপর কঠোরতম হামলা শুরুই করিনি। বড় ঢেউ আসছে খুব শিগগির।’
ট্রাম্প জানান, তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ইরানের পক্ষ থেকে কয়েকটি আরব দেশের ওপর হামলা। তিনি বিশেষভাবে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব নেতাদের) বলেছিলাম—আমরা বিষয়টি সামলাচ্ছি। শুরুতে তারা খুব কম জড়িত থাকার কথা বলেছিল। এখন তারাও সক্রিয়ভাবে লড়ছে।’
আরব নেতাদের সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের চিনি। তারা কঠিন ও বুদ্ধিমান।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হোটেল ও আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় ওই দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের পছন্দ করে, কিন্তু তারা দেখছিল পরিস্থিতি কোথায় যায়।’
ইরানে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানি না কে নেতৃত্বে আসবে। হয়তো তারা ভাগ্যবান হবে এবং দক্ষ কাউকে পাবে।’ তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক মার্কিন হামলায় ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন। এটা ছিল অসাধারণ হামলা।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা সবাই এক জায়গায় বৈঠক করছিল। ভেবেছিল, তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে পেয়েছি।’ বর্তমানে ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারিনি।’ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আগেও সোলাইমানিকে সরিয়েছিলাম। সেটা ছিল বড় পদক্ষেপ।’
এ ছাড়া ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও উল্লেখ করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় করা ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন—ওটা ছিল বোমা তৈরির পথ তৈরি করে দেওয়া।
সাক্ষাৎকারের শেষে ট্রাম্প বলেন, সবকিছু ভালোভাবেই চলছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানকে মোকাবিলায় সামরিক পথই তাঁর কাছে সঠিক কৌশল।

ইরান একদিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে নয়টি ব্যালিস্টিক আর ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এ নিয়ে গত শনিবার থেকে আরব আমিরাতে ১৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৮৯টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
২৫ মিনিট আগে
ইরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। বিপরীতে এটি ধ্বংস করতে একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এটিই এখন পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনাকারীদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩৩ মিনিট আগে
স্টারমার বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক হামলায় যোগ দিচ্ছি না। আমাদের সিদ্ধান্ত কেবল দীর্ঘদিনের বন্ধু ও মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।’
১ ঘণ্টা আগে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে তিনি এমন ঘোষণা দিলেন।
২ ঘণ্টা আগে