
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ বিতরণ করা এক বিতর্কিত মানবিক সংস্থাকে ৩ কোটি ডলার দিচ্ছে। এই সংস্থার মাসব্যাপী কার্যক্রম এবং খাবার বিতরণ কেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের হতাহতের ঘটনায় ‘কিছু মার্কিন কর্মকর্তার উদ্বেগ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চারটি সূত্র ও রয়টার্সের হাতে আসা একটি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন বা জিএইচএফকে’ কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি এ সংস্থাকে অর্থ সহায়তা দিল। মার্কিন বেসরকারি সামরিক এবং লজিস্টিকস কোম্পানির মাধ্যমে এই সংস্থা গাজায় ত্রাণ পাঠায় এবং তা তথাকথিত নিরাপদ জায়গায় বিতরণ করা হয়।
রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি জিএইচএফকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান দিয়েছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্দেশনায়’ অনুমোদন করা হয়। এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডলারের প্রথম কিস্তি ছাড় করা হয়েছে।
দুটি সূত্র জানায়, প্রতি মাসে জিএইচএফ-কে আরও ৩ কোটি ডলারের অনুদান দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করেনি, বরং সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। জিএইচএফ-ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বা মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, জিএইচএফ-কে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সংস্থাটিকে সাধারণত যে নিরীক্ষার (অডিট) মধ্যে পড়তে হয়, তা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। ইউএসএআইডি থেকে প্রথমবার অনুদান পেতে যেসব সংস্থার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের খুঁটিনাটি যাচাই করা হয়, জিএইচএফ-এর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
এক সাবেক মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘এমন নিরীক্ষা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ, কখনো মাসখানেকও লেগে যায়।’ সূত্র আরও জানায়, গাজায় যেসব সংস্থা ত্রাণ দেয়, তাদের ক্ষেত্রে চরমপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু জিএইচএফ-কে এই অতিরিক্ত যাচাই থেকেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
জিএইচএফ গাজায় মার্কিন লভ্যাংশভিত্তিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ‘সেইফ রিচ সলিউশনসের’ সঙ্গে কাজ করছে। এটি এক সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত। পাশাপাশি নিরাপত্তা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্যদের নিয়ে গড়া প্রতিষ্ঠান ‘ইউজি সলিউশনস।’
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে জিএইচএফ-কে ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এই অর্থ ইউএসএআইডি—এর বাজেট থেকেই দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে চারটি সূত্র জানায়, অনেক মার্কিন কর্মকর্তা এ অর্থ সহায়তার বিরোধিতা করেছেন। কারণ, তারা মনে করেন, খাবার বিতরণ কেন্দ্রে সহিংসতা, জিএইচএফ-এর অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং বেসরকারি সামরিক-লজিস্টিকস কোম্পানির সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
গত ১৯ মে ইসরায়েল গাজায় ১১ সপ্তাহের ত্রাণ অবরোধ শিথিল করে সীমিত পরিসরে জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়। এরপর জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৪০০—এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে জিএইচএফ-এর ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশেই নিহত হয়েছে বেশি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ ত্রাণ কর্মকর্তা জনাথন হুইটল গত রোববার বলেন, ‘নিহতদের বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ বা গোলার আঘাতে মারা গেছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এমন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো সামরিকীকৃত অঞ্চল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে, ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনি জনতার মধ্যে অনেকেই নিহত হয়েছে। কেউ কেউ আবার সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় হতাহত হয়েছে।’
এ বিষয়ে মঙ্গলবার জিএইচএফ জানায়, তারা এখন পর্যন্ত গাজায় ৪ কোটি খাবার বিতরণ করেছে। তবে জাতিসংঘ এবং অন্য সংস্থাগুলো লুটপাটের কারণে তাদের ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না। জিএইচএফ-এর এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কোনো ট্রাক লুটপাটের শিকার হয়নি। মূল কথা হলো, আমাদের ত্রাণ নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছে। বাদানুবাদ বা কাদা ছোড়াছুড়ির বদলে আমরা জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আমন্ত্রণ জানাই, যাতে সবাই মিলে গাজার জনগণকে খাদ্য সরবরাহ করা যায়।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
৩ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
১০ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৩১ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
৩৫ মিনিট আগে