Ajker Patrika

ট্রাম্পের ঘোষণার আগমুহূর্তে শেয়ারবাজারে ১০ কোটি ডলার মুনাফা রহস্যময় ব্যক্তির

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৭
ট্রাম্পের ঘোষণার আগমুহূর্তে শেয়ারবাজারে ১০ কোটি ডলার মুনাফা রহস্যময় ব্যক্তির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

ইরান যুদ্ধ পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বিশ্ববাজারে এক রহস্যময় লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই ঘোষণার মাত্র ২০ মিনিট আগে শুরু হওয়া এই লেনদেন একটি ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করেছিল, যা থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার মুনাফা তুলে নেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (সিএমই) এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ই-মিনি ফিউচার্সে আকস্মিক লেনদেন বেড়ে যায়। একই সঙ্গে তেলের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সাধারণত প্রি-মার্কেট বা বাজার শুরুর আগের এই সময়ে লেনদেন বেশ ঝিমিয়ে থাকে, কিন্তু ওই দিন চিত্র ছিল ভিন্ন।

এই অস্বাভাবিক লেনদেনের ঠিক ১৫ মিনিট পর, সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখা হবে।

ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘আনইউজুয়াল হোয়েলস’-এর তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত ওই বিনিয়োগকারী অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে দুটি বাজি ধরেছিলেন। প্রথমত, তিনি প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স কেনেন, যাতে উত্তেজনা কমলে বাজার চাঙা হওয়ার সুবিধা পাওয়া যায়।

তারপর তিনি ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের তেলের ফিউচার্স বিক্রি (শর্ট সেল) করেন। ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেলের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কমে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৫৮ কোটি ডলার মূল্যের ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স হাতবদল হয়, যা ওই সময়ের স্বাভাবিক লেনদেনের চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ বেশি।

ট্রাম্পের পোস্টের পর বাজার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে এবং তেলের দাম দ্রুত কমতে থাকে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার থেকে নেমে ৯২ ডলারে দাঁড়ায়। আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৮৮.৭০ ডলারে নামে।

হিসাব অনুযায়ী, তেলের দামের এই ওঠানামা থেকেই মাত্র ২০ মিনিটে প্রায় ১০ কোটি ডলার মুনাফা করা সম্ভব হয়েছে। শেয়ারবাজারের লাভ যোগ করলে এই অঙ্ক আরও অনেক বেশি হবে।

এই ঘটনার সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই এমন লেনদেন। ওই সময় কোনো নিউজ অ্যালার্ট বা নির্ধারিত ব্রিফিং ছিল না যে ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। অথচ কেউ একজন নিখুঁত সময়ে দুটি বাজারে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজি ধরেন।

হেজ ফান্ড ম্যানেজার ম্যাট উইলিয়াম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘২৫ বছরের বাজার পর্যবেক্ষণে এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ঘটনা।’

তিনি আরও জানান, গতকাল সোমবার সকালে বড় কোনো অর্থনৈতিক তথ্য বা ফেডারেল রিজার্ভের মন্তব্য ছাড়াই এমন লেনদেনের ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। এর ফলে কেউ একজন বিশাল মুনাফা লুফে নিয়েছেন।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ব্রোকারেজ মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট। তাঁর মতে, সরাসরি কারণ প্রমাণ করা কঠিন হলেও ট্রাম্পের পোস্টের ১৫ মিনিট আগে কে বা কারা এত বিপুল পরিমাণ লেনদেন করার সুযোগ পেল, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) অবশ্য এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের আগেও এমন বড় লেনদেনের নজির দেখা গেছে। জ্বালানি খাতের পরামর্শকেরাও কিছু বড় ‘ব্লক ট্রেড’ বা বিশাল পরিমাণ শেয়ার লেনদেনের সময় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঠিক আগে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পক্ষে পলিমার্কেটে একজন ব্যবহারকারী ৩৪ হাজার ডলারের বাজি ধরেছিলেন। যা নিয়ে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা ভেতরের খবর ফাঁসের সন্দেহ জোরালো হয়।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই এই চক্রান্তের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো আমেরিকান জনগণের জন্য যা ভালো তা করা।’

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে কুশ দেশাই জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে অবৈধ মুনাফা অর্জন করলে সরকার বরদাশত করবে না। উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া এমন ইঙ্গিত দেওয়াকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর এই বার্তার পর বিশ্ববাজারে শেয়ারের দামে আবার কিছুটা পতন এবং তেলের বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ দেখা দেয়।

স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে পড়েছে তা থেকে বাঁচতে এমন ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত