Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের আকাশ সুরক্ষায় সহায়তা দেবে ইউক্রেন, বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের আকাশ সুরক্ষায় সহায়তা দেবে ইউক্রেন, বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
কাতারের আমির শেখ হাম্মাদ আল থানির সঙ্গে ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর মধ্যপ্রাচ্য সফরকে সফল বলে আখ্যা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার তিনি জানান, অ্যান্টি–ড্রোন প্রযুক্তি বিক্রির লক্ষ্যে এই সফরে তিনি সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অ্যান্টি–ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন নিজেদের অবস্থান বদলাতে চাইছে। শুধু সামরিক সহায়তা গ্রহণকারী দেশ নয়, বরং অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত হতে চায় তারা। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সময় তৈরি করা স্বল্পমূল্যের ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ দেখছে কিয়েভ। অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চায় তারা। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রায়ই গেমারদের ব্যবহৃত ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি গগলস ও বাজারে সহজলভ্য ড্রোন যন্ত্রাংশের মতো ভোক্তা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনাধীন এবং কাতারের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিগুলোর মেয়াদ ১০ বছর। এগুলোর মূল্য হতে পারে ‘বিলিয়ন ডলার।’ এমনটাই জানান জেলেনস্কি। তিনি কাতার থেকে এক কনফারেন্স কলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটি ইরানি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। জেলেনস্কি জানান, তিনি সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছেন।

তিনি নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক ড্রোন বিক্রির ঘোষণা দেননি। তবে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ইউরোপীয় অর্থায়নে বিলম্বের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেন সহায়তা পেতে পারে। কারণ হাঙ্গেরি ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি ঋণ প্যাকেজ আটকে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এতে ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় ‘অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের মতো অভিজ্ঞতা আর কোনো দেশের নেই—এটা সবাই বোঝে। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, আর তারা আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যেগুলো ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইরানি বিস্ফোরক ড্রোন ঠেকাতে কম খরচের কার্যকর সমাধান হিসেবে ইউক্রেনের নতুন ড্রোন-প্রতিরোধী অস্ত্র এখন চাহিদায় রয়েছে। গত চার বছরে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে এসব ড্রোন ভূপাতিত করার দক্ষতা অর্জনে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে বাধ্য করেছে।

জেলেনস্কি জানান, দীর্ঘমেয়াদি এসব চুক্তিতে ইউক্রেনের ড্রোন শিল্পে উপসাগরীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইউক্রেন ২০০ জনের বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। তবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে এবং ২০২২ সাল থেকে রাশিয়াকে বিস্ফোরক ড্রোন সরবরাহ করে আসছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত