Ajker Patrika

নেতানিয়াহুর অধীনে বর্ণবাদী হয়ে উঠেছে ইসরায়েল, ভেঙে দিচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেতানিয়াহুর অধীনে বর্ণবাদী হয়ে উঠেছে ইসরায়েল, ভেঙে দিচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভনি। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলার’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি সশস্ত্র সেটলার (বসতিস্থাপনকারী) মিলিশিয়া বাহিনী গঠন, সমান্তরাল বিচারব্যবস্থা এবং অনির্দিষ্টকালের দখলদারিত্বকে প্রশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল ভিত্তিগুলোকে দুর্বল করার জন্য নেতানিয়াহুর সরকারকে দায়ী করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে লিভনি লিখেছেন, ‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সবার জন্য সমান আইন এবং অস্ত্রের ওপর একক কর্তৃত্ব থাকে। কিন্তু ইসরায়েলের কোনো স্বীকৃত সীমানা নেই; এখানে এখন আর সবার জন্য এক আইন ও বিচার ব্যবস্থা নেই, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের সমান্তরালে একটি ধর্মীয় আইন ও বিচার ব্যবস্থা চলছে। এছাড়া এখানে সশস্ত্র ও সহিংস মিলিশিয়া বাহিনী রয়েছে যারা নিজেদের ইচ্ছামতো তাণ্ডব চালাচ্ছে। ইসরায়েল সরকার আসলে ইসরায়েল রাষ্ট্রকেই ভেঙে ফেলছে।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটলারদের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা নিন্দার মুখে লিভনি এই মন্তব্য করলেন।

বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে এখন ক্রমবর্ধমান ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল ‘বর্ণবৈষম্য বা অ্যাপার্থাইড’–এর মতো অপরাধ করছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিটিসেলেম বলছে, ইসরায়েল তার নিয়ন্ত্রণাধীন পুরো অঞ্চলে একটি বর্ণবাদী শাসন পরিচালনা করছে। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বর্ণবৈষম্য এবং নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবৈধ ইসরায়েলি সেটলাররা অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর ওপর ধারাবাহিক নতুন হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন প্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এই সহিংসতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরোপিত চলাচলের বিধিনিষেধকে পুঁজি করে সেটলাররা ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহরগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠী ও মেডিকেল টিমগুলো জানিয়েছে, রাস্তা বন্ধ এবং চেকপয়েন্টের কারণে অ্যাম্বুলেন্সগুলো আহতদের কাছে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

সেটলারদের এই সহিংসতা এখন একসসঙ্গে একাধিক ফিলিস্তিনি এলাকায় সমন্বিত অভিযানের রূপ নিয়েছে। মাত্র দুই দিনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৩টি স্থানে তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর চড়াও হয়েছে; ঘরবাড়ি ও যানবাহনে আগুন দিয়েছে, জানালা ভাঙচুর করেছে, ফিলিস্তিনিদের গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং বাসিন্দাদের মারধর করেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল জেনিন, নাবলুস এবং সালফিতের কাছের গ্রামগুলো, যেখানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চলতি বছরে পশ্চিম তীরে সেটলারদের পক্ষ থেকে ১ হাজার ১০০-এরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে গ্রাম, কৃষি জমি এবং ফিলিস্তিনিদের সম্পদের ওপর আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত। প্রায়ই এসব হামলা ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় পরিচালিত হয়। বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও সেটলারদের পক্ষ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা পুরো দেশজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

গঙ্গাচড়ায় সহিংসতার মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত