Ajker Patrika

পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তায় ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ২২: ২৭
পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তায় ইরান
ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে ইরান বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে বলে আভাস দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো সুফল না পাওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে ইরানের বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এই চুক্তির সদস্যপদ ইরানের জন্য কোনো সুবিধা তো আনেইনি, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দাগিরির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

এনপিটির মূল লক্ষ্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করা হলেও ইরানের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্র কখনো এই চুক্তির সদস্য হয়নি এবং বিশ্বশক্তির পক্ষ থেকে তাদের ওপর কোনো চাপও নেই। অথচ ইরান সব সময়ই এই চুক্তির সদস্য হিসেবে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।

এমনকি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তির আওতায় ইরান অতিরিক্ত প্রটোকল মেনে আন্তর্জাতিক তদারকিও মেনে নিয়েছিল।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এনপিটির সদস্যপদ মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছে। শত্রুপক্ষ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বারবার নাশকতা চালিয়েছে এবং নজিরবিহীনভাবে সেগুলোতে বোমা হামলা করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল গ্রোসিকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পুতুল’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। গ্রোসির একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পরোক্ষভাবে ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলার অনুমতি দিয়েছেন। গ্রোসি বলেছিলেন, একটি পারমাণবিক বোমা হামলা ইরানের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করে দিতে পারে। তাঁর এমন মন্তব্যকে ইরান ‘লজ্জাজনক’ ও ‘নির্মম’ হিসেবে অভিহিত করে।

কয়েক বছর আগে মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞ ডেভিড অলব্রাইট যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বলেছিলেন, আইএইএ পরিদর্শকেরা মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের পদাতিক বাহিনী’ হিসেবে কাজ করেন। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে ইরান বলেছে, যে সংস্থাটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে, সেই সংস্থার চুক্তিতে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ইরান বিশ্বাস করে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যেহেতু এনপিটি চুক্তিটি এখন কেবল গোয়েন্দাগিরি ও ইরানের অধিকার খর্ব করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই তেহরান যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল, ছিনিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন

সোনার দাম দীর্ঘমেয়াদি পতনে যাচ্ছে

‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল: আসিফ মাহমুদ

হরমুজ দিয়ে চলবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধু দেশের জাহাজ

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে জামায়াত এমপির ‘বারণ’, শোনেননি ইউএনও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত