Ajker Patrika

ইরানে সামরিক চিপ তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে চীন, শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে সামরিক চিপ তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে চীন, শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
চীন ইরানকে সামরিক চিপ তৈরির সরঞ্জাম দিয়েছে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সবচেয়ে বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন–এসএমআইসি ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে চিপ তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমনটাই দাবি করেছেন। এতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের এক মাস ধরে চলা সংঘাতে বেইজিংয়ের অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের অভিযোগ—চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আগে থেকেই কড়া নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এসএমআইসি প্রায় এক বছর আগে থেকে ইরানে এসব সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি বন্ধ হয়েছে বলে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’ আরেক কর্মকর্তা জানান, এই সহযোগিতার মধ্যে ‘এসএমআইসি-এর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণও প্রায় নিশ্চিতভাবেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

অপ্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য নিয়ে কথা বলার জন্য কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য দেন। তারা সরঞ্জামগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কি না তা উল্লেখ করেননি। যদি তা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপত্তির হয়, তবে ইরানে পাঠানো হলে তা তথাকথিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হতে পারে।

চীনা সরকার বলছে, তারা ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেনই করে থাকে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এসএমআইসিকে বাণিজ্যিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন রপ্তানি প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত হয়। এসএমআইসি চীনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চীন প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেয়নি। এ সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। এই অভিযোগগুলো এমন সময় সামনে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং একই সঙ্গে চীনের উন্নত চিপ শিল্পকে সীমিত করার চেষ্টা করছে, ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

গত মাসে রয়টার্স জানায়, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলার আগে দেশটির উপকূলের কাছে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করে।

চিপ তৈরির এসব সরঞ্জাম যুদ্ধের জবাবে ইরানের পদক্ষেপে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করে। এরপর থেকে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, সরঞ্জামগুলো ইরানের ‘সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের’ কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং চিপ প্রয়োজন এমন যেকোনো ইলেকট্রনিকস তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চীনের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এসএমআইসিসহ বিভিন্ন চীনা চিপ নির্মাতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন শীর্ষ সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেমন লাম রিসার্চ, কেএলএ, এবং অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালসের উন্নত যন্ত্রপাতি থেকে তাদের বঞ্চিত রাখা। ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এসএমআইসির ওপর বিধিনিষেধ আরও কঠোর করে। প্রতিষ্ঠানটি হুয়াওয়ের মেট–৬০ প্রো ফোনের জন্য উন্নত চিপ তৈরি করার পর তাদের সবচেয়ে আধুনিক কারখানায় অতিরিক্ত মার্কিন পণ্য আমদানি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

গঙ্গাচড়ায় সহিংসতার মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত