Ajker Patrika

তেলের জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায় মানবে না যুক্তরাজ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৮
তেলের জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায় মানবে না যুক্তরাজ্য
৪০ টিরও বেশি দেশের এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তথাকথিত ‘টোল বুথ’ পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ তার মিত্ররা এই উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে ইরান ও ওমান মিলে একটি নতুন প্রটোকল তৈরির পরিকল্পনা করছে, যার আওতায় এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ অনুমতি ও লাইসেন্স নিতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে কিছু জাহাজের কাছ থেকে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি ফি নেওয়া হয়েছে, যা চীনা ইউয়ান বা স্টেবলকয়েনে পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে পারছে এবং সেটিও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ৪০টির বেশি দেশের এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, জাহাজ চলাচলের ওপর এ ধরনের টোল আরোপ সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই জলপথ আবারও দ্রুত খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

ইভেট কুপার আরও বলেন, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার জাহাজ বর্তমানে এই অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার সহায়তা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে ইরান দাবি করেছে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য জাহাজ চলাচল সীমিত করা নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই জলপথ দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধই থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত