Ajker Patrika

এবার দক্ষিণ গাজায় আতঙ্ক

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯: ৩৮
এবার দক্ষিণ গাজায় আতঙ্ক

গাজা উপত্যকাজুড়েই হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হাসপাতালের আশপাশেও হামলা করছে তারা; বিশেষ করে অবরুদ্ধ উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে গত সোমবার ঘোষণা দিয়ে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এতে দক্ষিণ গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবর আল জাজিরার।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা যেন প্রতিদিন অনলাইনে দেখে নেয় কোথায় আক্রমণ করা হবে। সে অনুসারে তারা যেন নিরাপদ জায়গায় চলে যায়। প্রতিদিন অনলাইনে এ তথ্য জানিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল। ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, গাজার মানুষকে এমন একটা ম্যাপ দেওয়া হচ্ছে, যেটা বিভিন্ন বর্গক্ষেত্রে ভাগ করা আছে। প্রতিটি বর্গক্ষেত্রকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিদিন ইসরায়েলের সেনা জানিয়ে দেবে, কোন নম্বরের জায়গাগুলোকে তারা টার্গেট করেছে। সেখান থেকে মানুষকে সরে যেতে হবে। সমস্যাটা হলো, মানুষের সত্যিই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তারা সরে যাওয়ার জায়গাও বিশেষ পাচ্ছেন না। 

ইন্টারনেটেরও সমস্যা আছে। ফলে নির্দিষ্ট দিনে নিরাপদ জায়গা কোনটা, তা জানতেও মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সাধারণ বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করতে হবে। তারা এখন পুরো গাজা ভূখণ্ডে অপারেশন চালাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে রক্ষার বিষয়টি জরুরি। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানিয়েছেন, এখনই কিছু বলার সময় আসেনি, তবে ইসরায়েলের কৌশলে কিছুটা বদল তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন। তারা একেবারে নির্দিষ্ট করে বলছে, কোন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যেতে হবে। মিলার আরও বলেন, ইসরায়েলের সেনা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা চিহ্নিত করছে, তারপর মানুষকে সেই জায়গা থেকে সরে যেতে বলছে। তারপর তারা আক্রমণ করছে। এটা আগে হয়নি। 

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে স্থল অভিযান চালিয়ে বাগান, গ্রিনহাউস ও কৃষিজমি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। এইচআরডব্লিউ আরও বলেছে, ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত হানুনে একসময় সবুজ কৃষিজমি ছিল। কিন্তু এখন তা হয়ে গেছে ধূসর ও বসবাসের অনুপযোগী। ফলে খাদ্য ও জীবিকা—উভয়সংকটই বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এইচআরডব্লিউ বলেছে, গাজায় সাত দিনব্যাপী চলা যুদ্ধবিরতিতেও এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত ছিল। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ইসরায়েল বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি ধ্বংস করেছে এবং সেই স্থলে সাঁজোয়া যান চলার উপযোগী নতুন পথ তৈরি করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ আরও বলেছে, গাজার বেসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য বিশ্বনেতাদের ইসরায়েলকে বলা উচিত। খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতা ও জীবিকা রক্ষা করা এবং ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ক্ষুধা থেকে মুক্ত করতে শিগগির পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বিশ্বনেতাদের।

হামাসকে দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের
জিম্মিমুক্তি নিয়ে হামাসকেই দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জানিয়েছেন, হামাস মোট ৮০ জন ইসরায়েলের নারী ও শিশুকে ছেড়েছে। বিনিময়ে ইসরায়েলও তার তিন গুণ ফিলিস্তিনি কয়েদিকে ছেড়েছে। এ ছাড়া হামাস আলাদা করে ২৩ জন থাইল্যান্ডের নাগরিককেও মুক্তি দিয়েছে। 

সুলিভান বলেন, সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সমঝোতায় মুক্তি দেওয়ার তালিকায় নাম থাকা কিছু নারীকে হামাস ছাড়েনি। তার পরই আলোচনা ভেঙে যায়। মিলার বলেন, ওই নারীরা মুক্তি পেয়ে তাদের ওপর অত্যাচারের কথা জানাক, সেটা সম্ভবত হামাস চায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত