Ajker Patrika

খামেনিকে যৌথভাবে হত্যার প্রস্তাব দেন নেতানিয়াহু, এরপরই হামলা চালান ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২: ৪১
খামেনিকে যৌথভাবে হত্যার প্রস্তাব দেন নেতানিয়াহু, এরপরই হামলা চালান ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ফোনকলে তিনি যুক্তি দেখান, কেন এমন একটি ‘জটিল ও দূরবর্তী’ যুদ্ধ শুরু করা প্রয়োজন, যার বিরুদ্ধেই একসময় নির্বাচনী প্রচারে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার সপ্তাহের শুরুর দিকে গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জানতেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে তাঁর কম্পাউন্ডে বৈঠকে বসবেন। এর ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা নেতৃত্ব ধ্বংসের হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বেন। কিন্তু নতুন গোয়েন্দা তথ্য বলছিল, বৈঠকটি শনিবার রাতের বদলে সকালে এগিয়ে আনা হয়েছে। ফোনালাপ সম্পর্কে অবহিত তিনজন ব্যক্তি এই তথ্য জানান। এই ফোনকলের কথা আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।

দশকের পর দশক ধরে ইরানে সামরিক আগ্রাসনের পক্ষে ওকালতি করা নেতানিয়াহু এবারে ইরানে হামলা চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে যুক্তি দেন, খামেনিকে হত্যা এবং ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি চেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর না-ও আসতে পারে। ফোনালাপের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালানোর ধারণা অনুমোদন করেছিলেন। তবে কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে, সেই সিদ্ধান্ত তখনো নেননি।

কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়াচ্ছিল। প্রশাসনের অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট কবে নির্দেশ দেবেন, সেটা শুধু সময়ের ব্যাপার। কয়েক দিন আগে সম্ভাব্য একটি তারিখ খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাতিল হয়েছিল।

নেতানিয়াহুর যুক্তি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা নির্ধারণ করতে পারেনি রয়টার্স। তবে ওই ফোনালাপ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া তাঁর শেষ বড় যুক্তি। সূত্রগুলোর বিশ্বাস, এই কল এবং ইরানের নেতাকে হত্যা করার সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এমন গোয়েন্দা তথ্যই ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সামরিক বাহিনীকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এগিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

নেতানিয়াহু যুক্তি দেন, পশ্চিমা বিশ্ব ও বহু ইরানির কাছে ‘দীর্ঘদিন ধরে ঘৃণিত’ ইরানি নেতৃত্বকে নির্মূল করতে সহায়তা করে ট্রাম্প ইতিহাস গড়তে পারেন। এমনকি ইরানিরা রাস্তায় নেমে ১৯৭৯ সাল থেকে দেশ শাসন করা ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উৎখাতও করতে পারে। তাঁর দাবি, এই শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সন্ত্রাস ও অস্থিরতার বড় উৎস।

প্রথম বোমা হামলা শুরু হয় শনিবার সকাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে রয়টার্সকে জানান, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ‘ইরানি শাসনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানি নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করা, তাদের প্রক্সিদের অস্ত্র সরবরাহের ক্ষমতা শেষ করা এবং নিশ্চিত করা যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’

সূত্রদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেননি। কিন্তু তিনি অত্যন্ত কার্যকরভাবে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে এমন এক ইরানি নেতাকে হত্যার সুযোগ, যিনি ট্রাম্পকে হত্যার প্রচেষ্টার তদারকি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, এই বিষয়টি প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্চের শুরুতে ইঙ্গিত দেন, প্রতিশোধ অন্তত একটি উদ্দেশ্য ছিল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, আর শেষ হাসিটা হেসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তেহরানে প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে ওয়াশিংটন, পর্যালোচনা করছে ইরান

এক-এগারোর আলোচিত সাবেক জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

ঈদ শেষে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্পিকার গালিবাফকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

বগুড়ায় আত্মগোপনে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত