Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ‘প্রজন্মের সবচেয়ে বড়’ শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধ ঘিরে ‘প্রজন্মের সবচেয়ে বড়’ শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা
ছবি: দ্য টাইমস

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন এক বৃহৎ শরণার্থী সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ)। সংস্থাটি বলছে, ইরানের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হলেও সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় শরণার্থী প্রবাহে পরিণত হতে পারে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরানে আংশিক অস্থিতিশীলতাও ‘অভূতপূর্ব মাত্রার’ শরণার্থী স্রোত সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার আগেই ইরানকে সম্ভাব্য বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশটির অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে এবং পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত।

ইউরোপের বিভিন্ন সরকার আশঙ্কা করছে, ইরান থেকে নতুন করে শরণার্থী ঢল নামলে তাদের আশ্রয়ব্যবস্থা চাপে পড়ে যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনেক দেশেই অভিবাসন কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। কারণ অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো নিয়ে দেশগুলোর জনমত এখন খুবই সংবেদনশীল।

ইইউ কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী—ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশকে এখন ইইউ-এর জন্য কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম সীমান্ত-নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘যদি বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, তার প্রভাব ব্রিটেনকেও বহন করতে হবে।’

এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টাইমস জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান নিজেই প্রায় ২৫ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রয়দাতা দেশ। এসব শরণার্থীর বেশির ভাগই আফগান নাগরিক। সাম্প্রতিক বিমান হামলার আগেই দেশটি অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৮ হাজারের বেশি আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বৃহত্তর অঞ্চলে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ সংঘাত, সহিংসতা ও দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছেন। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আরও লাখো পরিবার ঘরছাড়া হতে পারে।

তবে ইইউএএ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া দায়িত্বশীল হবে না বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ইইউ-এর শেনজেন সীমান্ত অঞ্চলে গত বছর আশ্রয় আবেদন ১৯ শতাংশ কমে ৮ লাখ ২২ হাজারে নেমে আসে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে ইইউএএ সতর্ক করেছে, এই হ্রাসকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, কারণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত