Ajker Patrika

ভারতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দিল্লিতে মরদেহ সৎকারে হিমশিম

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১২: ০৬
ভারতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দিল্লিতে মরদেহ সৎকারে হিমশিম

ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।  আজ বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে দুই লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই ভারতে একদিনে শনাক্ত হওয়া সর্বোচ্চ সংক্রমণ। 

সংক্রমণ শনাক্ত দৈনিক এক লাখ থেকে দুই লাখে পৌঁছতে যুক্তরাষ্ট্রের লেগেছিল ২১ দিন। সেখানে মাত্র ১১ দিনেই সেই ভয়ঙ্কর মাইলস্টোন স্পর্শ করলো ভারত।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়াল ১ লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি  ৪০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায়  ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। সংক্রমণ তালিকায় দেশটির  অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এ তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে এখনও যুক্তরাষ্ট্র।  সংক্রমণ তালিকায় ব্রাজিল বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ভারতে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র।  গত একদিনে এ রাজ্যে  ৫৮ হাজার ২৯৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন  ২৭৮ জন।

 এদিকে করোনায় মৃত্যু বেশি হওয়ায় দিল্লিতে মরদেহ সৎকারে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দিল্লির সবচেয়ে বড় শ্মশান নিগামবোধ ঘাট। এখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দৈনিক ১৫ জনের মরদেহ দাহ করা হলেও করোনায় মৃত্যুর বাড়ায় এখন শ্মশানটিতে ৩০টি মরদেহ দাহ করতে হচ্ছে। 

গতকাল বুধবার দিল্লিতে একদিনে রেকর্ড ১০৪ জনের মৃত্যু হয়। গত ২০ নভেম্বরের পর এটি দিল্লিতে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

করোনায় আক্রান্ত দাদাকে গত মঙ্গলবার হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী গৌতম। গত বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা৩০ মিনিটের দিকে নিয়ে দিল্লির নিগামবোধ ঘাটে পৌঁছানোর পাঁচ ঘণ্টা পরেও জায়গার অভাবে  দাদার মরদেহ সৎকার করাতে পারেননি তিনি।

গৌতম বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই থেকে তিনটি মরদেহ নিয়ে আসা হচ্ছে।

দিল্লিতে মুসলিমদের কবরস্থানগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। আইটিও এলাকায় অবস্থিত শহরটির সর্ববৃহৎ কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ শামিম বলেন, আগে প্রতিদিন এক থেকে দুটি মরদেহ আসতো। এখন সেটি বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। যদি আগামী দশদিন এমন চলতে থাকে তাহলে আর জায়গা থাকবে না।

 অন্যদিকে ভারতের হরিদ্বারে চলছে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মী উৎসব কুম্ভ মেলা। মেলায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার পুণ্যার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে শীর্ষ নয় পূজারিও রয়েছেন। দুই মাস ধরে চলা এই উৎসবের সবচেয়ে শুভ দিন ছিল গত মঙ্গলবার। ওই দিন গঙ্গা নদীতে স্নান করেছেন ত্রিশ লাখের বেশি পুণ্যার্থী। বুধবারও লাখ লাখ মানুষও এই স্নান উৎসবে যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পবিত্র নদী গঙ্গায় পুণ্য তিথিতে স্নান করলে সব পাপ মোচন ও মোক্ষ লাভ হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত