Ajker Patrika

ইরানের ‘হত্যাচেষ্টা’ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন সুইডেনপ্রবাসী কর্মী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৮: ৪৪
ইরানের ‘হত্যাচেষ্টা’ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন সুইডেনপ্রবাসী কর্মী
সুইডেনপ্রবাসী ইরানি অধিকারকর্মী আরভিন খোশনুদ। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

একটি হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তেহরানের কড়া সমালোচক সুইডেনপ্রবাসী কর্মী আরভিন খোশনুদ। ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি। সুইডিশ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাস, ইরানের নির্দেশে এক কিশোর খোশনুদকে হত্যার চেষ্টা চালায়। সম্প্রতি এক আদালতের রায়ে ওই কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, ৪১ বছর বয়সী আরভিন খোশনুদ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এখনো তিনি ইরানের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁকে হত্যার চেষ্টা হতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুইডেনের গথেনবার্গের উত্তরে উদ্দেভাল্লা শহরে খোশনুদের বাড়িতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর ছুরি নিয়ে হাজির হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় আদালত ওই কিশোরকে হত্যাচেষ্টার দায়ে তিন বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতিতে সহায়তার অভিযোগে আরও দুই কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

সুইডেনের নিরাপত্তা সংস্থা ‘সাপো’ ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুর্দি বংশোদ্ভূত দুই গ্যাং নেতা রাওয়া মাজিদ ও ইসমাইল আবদো ইরানের হয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলজুড়ে ইরানবিরোধী ব্যক্তি ও ইহুদিদের ওপর হামলা চালানোর কাজে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তারা অনলাইনে কিশোরদের নিয়োগ দিয়ে এসব হামলা চালায়, যাতে ইরান সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করতে পারে।

খোশনুদ জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিরাপত্তা গেট টপকে ওই কিশোর তাঁর বাসার ইন্টারকমে কল দেয়। সে খোশনুদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তখন তিনি বাথরুমে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি ওপরে গিয়ে দেখেন, এক অস্থির তরুণ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ঘটনার স্মৃতিচারণ করে খোশনুদ বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না, একজন নাকি আরও কেউ আছে কিংবা তাদের কাছে কী ধরনের অস্ত্র রয়েছে।’

খোশনুদ আরও বলেন, ‘যদি সে আমাকে দেখে ফেলত, তাহলে সম্ভবত প্রথমে আমার স্ত্রীকে ছুরি মারত, তারপর আমাকে হত্যার চেষ্টা করত।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সুইডেনে গ্যাং সহিংসতার কারণে কিশোরদের ব্যবহার করে হামলার ঘটনা বেড়েছে। খোশনুদ জানান, তাঁর আশঙ্কা ছিল হামলাকারীরা ঘরে গ্রেনেডও ছুড়তে পারে।

পরে পুলিশ এসে পৌঁছালে কিশোরটি পালিয়ে যায়। তদন্তে উঠে আসে, ‘দান্তে পেইকার’ নামের এক সুইডিশ-ইরানি নাগরিক এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। ৪১ বছর বয়সী পেইকারকে সম্প্রতি ইউরোপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

খোশনুদের দাবি—পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, তাঁকে হত্যা করলে হামলাকারীদের ৩ লাখ ৫০ হাজার সুইডিশ ক্রোনা এবং তাঁর স্ত্রীকেও হত্যা করা হলে অতিরিক্ত এক লাখ ক্রোনা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গোপন স্থানে বসবাস করছেন খোশনুদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের জীবন ছিল খুব সামাজিক। বন্ধু ও স্বজনদের আনাগোনা ছিল সব সময়। এখন আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছি।’

সুইডিশ সরকারের প্রতি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খোশনুদ মত দেন, শুধু কথার নিন্দা নয়, ইরানকে সন্ত্রাসবাদের মূল্য চোকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত