Ajker Patrika

গ্যাসোলিন রপ্তানি স্থগিত করল রাশিয়া, কার্যকর ১ এপ্রিল থেকে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৫৫
গ্যাসোলিন রপ্তানি স্থগিত করল রাশিয়া, কার্যকর ১ এপ্রিল থেকে
ইয়ামাল উপদ্বীপে অবস্থিত রাশিয়ার একটি জ্বালানি ক্ষেত্র। ছবি: এএফপি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দামের উল্লম্ফনের মধ্যে নিজস্ব চাহিদা মেটাতে গ্যাসোলিন রপ্তানি স্থগিতের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশটির উৎপাদকদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্দার নোভাক জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে আগামী মাস থেকে গ্যাসোলিন রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে খসড়া আইন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সরকার। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার তেল উৎপাদকদের সঙ্গে বৈঠকে নোভাক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সৃষ্ট অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা উল্লেখযোগ্য দামের ওঠানামার জন্ম দিয়েছে।’ একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার তেলজাত পণ্যের প্রতি বিশ্ববাজারে চাহিদা এখন উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

ব্লুমবার্গের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া সাধারণত দিনে প্রায় ১ লাখ ব্যারেল গ্যাসোলিন রপ্তানি করে থাকে। তবে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ। তবু ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তেলবাজার ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে, ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার। এতে রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও বিক্রির সক্ষমতা বিঘ্নিত হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দুটি তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলো হলো রোজেনেফট পিজেএসসির ভলগা অঞ্চলের সারাতোভ প্ল্যান্ট এবং সারগাতনাফতেগ্যাজ পিজেএসসির বাল্টিক উপকূলের কাছে কিরিশি রিফাইনারি। ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী, এই স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা রাশিয়ার মোট রিফাইন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সামান্য কম।

গত কয়েক বছরে রাশিয়া বসন্ত ও শরৎ মৌসুমের মতো উচ্চ চাহিদার সময়ে গ্যাসোলিন রপ্তানি স্থগিত রেখেছে, যখন কৃষিকাজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। সর্বশেষ গ্যাসোলিন উৎপাদকদের জন্য আরোপিত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ফেব্রুয়ারিতেই তুলে নেওয়া হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত