Ajker Patrika

নতুন দিকে মোড় নিল চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক

  • একের পর এক মার্কিন মিত্রের সঙ্গে চীনের সখ্য বাড়ছে
  • ভিসা ছাড়াই ৩০ দিন পর্যন্ত চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকেরা
  • চীনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে যুক্তরাজ্য
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নতুন দিকে মোড় নিল চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক
এটি গত আট বছরে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। ছবি: এপির সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে চীনের দিকে ঝোঁকার সর্বশেষ নজির স্থাপন করল যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, ব্রিটিশ নাগরিকেরা শিগগির ভিসা ছাড়া চীন সফর করতে পারবে। এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যাস্ট্রাজেনেকা দেশটিতে দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বিবিসি জানায়, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টায় ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে এক কাতারে যোগ দিল যুক্তরাজ্য।

সিএনএন জানায়, যুক্তরাজ্যের কোনো সরকারপ্রধান প্রায় আট বছর পর চীন সফরে গেলেন। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্টারমার গতকাল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, চীন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরি। আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমেই ব্রিটিশ জনগণের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এবং বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রয়োজন।

স্টারমারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রেসিডেন্ট সি বলেন, বড় পরিসরে স্থিতিশীল ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বেইজিং আগ্রহী। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন জোয়ার নিয়ে আসার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, চীনের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানো এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়া ৩০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অবশ্য এই বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে ‘অনিয়মিত অভিবাসন’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে ‘একতরফাবাদ, সুরক্ষাবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির’ উত্থান ঘটছে। এই অবস্থায় চীন ও যুক্তরাজ্য বহুপক্ষীয় ও মুক্ত বাণিজ্যের জন্য একসঙ্গে কাজ

করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কারণে একের পর এক মার্কিন মিত্রের চীন সফর আলাদাভাবে বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। চলতি মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফর করেন। ওই বৈঠকে বিভিন্ন আমদানি পণ্যে শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছেন দুই নেতা। গত মাসে চীন সফরে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছে এবং নিজেকে মুক্ত বাণিজ্য ও বিশ্বায়নের নির্ভরযোগ্য রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তাই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মার্কিন মিত্রদের সফরকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেছে বেইজিং।

এদিকে স্টারমারের সফরে হোয়াইট হাউসের কড়া নজর রয়েছে। কার্নির সফরে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণার পর কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজ দপ্তরেই মারা যান খামেনি, কখন মৃত্যু হয়—জানাল ইরান

রাজধানীর চার স্থানে ছড়ানো লাশের টুকরা, খুনি থাকতেন একই ফ্ল্যাটে: পুলিশ

খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করল যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি কী

কলকাতায় টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি জোয়াহেরুলের মৃত্যু, লাশ দেশে আসতে পারে আজ

মধ্যপ্রাচ্যে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা যাবে না, চীনের হুঁশিয়ারি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত