Ajker Patrika

বৈধ ভিসা থাকলেও আগামী ৬ মাস অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না ইরানি পর্যটকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৩
বৈধ ভিসা থাকলেও আগামী ৬ মাস অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না ইরানি পর্যটকেরা
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ছবি: সংগৃহীত

ইরানিদের ওপর আগামী ছয় মাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁরা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন না বা ফিরতে চাইবেন না, এমন আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের বিষয়টি সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত; কেউ স্রেফ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, তার আকস্মিক ফল হওয়া উচিত নয়।’

বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ইরানি ভিসাধারী প্রভাবিত হবেন। তবে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের সঙ্গী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক সংসদ সদস্য ও শরণার্থী অধিকারকর্মীরা। এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ভিসাধারীদের ভ্রমণে বাধা দিতে নতুন আইন আনে অস্ট্রেলিয়া সরকার। একই দিনে ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে পাঁচজন পরে ইরানে ফিরে যান।

এক বিবৃতিতে টনি বার্ক বলেন, বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি সঠিকভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে নমনীয়তাও বজায় থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে ‘সহানুভূতিশীল বিবেচনা’ করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞা অন্য কোনো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এদিকে অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টারের ডেপুটি সিইও জানা ফাভেরা এই পদক্ষেপকে ‘ইরানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা এবং চরম নৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফাভেরা বলেন, ‘যে সময়ে ইরানিদের সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং তাঁদের দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আলবানিজ সরকার তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জালি স্টেগালের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে থাকা আইন সরকারকে ‘অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত’ ক্ষমতা দিয়েছে এবং এটি সংশোধন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘বৈধভাবে পাওয়া ভিসা বাতিল করা আমাদের পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমিয়ে দেয় এবং একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস পার্টি বলেছে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ইরানের জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধে লেবার সরকার সমর্থন দিচ্ছে’—এই দাবিটি একটি মিথ্যা অজুহাতমাত্র।

দলটির সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ বলেন, ‘যাঁদের এখানে আসার ভিসা আছে, তাঁদের সুরক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে আলবানিজ সরকার ইরানের মানুষের নিরাপত্তা সম্পর্কে আসলে কী ভাবে, তা আজ শতভাগ পরিষ্কার হয়ে গেল।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত