হংকংয়ে একটি মোবাইল গেম ডাউনলোড বা শেয়ার করলে কঠিন শাস্তি হতে পারে। ‘রিভার্সড ফ্রন্ট: বনফায়ার’ নামের এই গেমের বিষয়বস্তু ‘কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার উৎখাত’। অর্থাৎ আপনি যদি গেমটি খেলেন, তাহলে খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে কমিউনিস্ট শাসকদের পরাজিত বা উৎখাত করতে হবে। দেশটির পুলিশ বলছে, যাঁরা এই গেম ডাউনলোড বা শেয়ার করবেন, তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে শাস্তি হতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেমটিতে খেলোয়াড়েরা ‘কমিউনিস্ট শাসনের পতনের’ জন্য তাইওয়ান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত বা উইঘুরদের পক্ষের সৈনিক হিসেবে খেলতে পারেন। গেমটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি কোনো ‘কাল্পনিক কাজ’ নয়। এই গেমের থিম যদি চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান, নীতি বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তা ‘ইচ্ছাকৃত’। তবে এই গেমে খেলোয়াড়েরা কমিউনিস্টদের হয়েও শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন। চাইলে কমিউনিস্ট বিপ্লবকেও সমর্থন করতে পারবেন।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হংকং পুলিশ জানায়, এই গেম ডাউনলোড করলে ‘উসকানিমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু করার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হতে পারে। পুলিশ আরও জানায়, গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইএসসি তাইওয়ানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
পুলিশের দাবি, ‘রিভার্সড ফ্রন্ট: বনফায়ার’ গেমটি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ ও ‘হংকংয়ের স্বাধীনতা’র মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলে, যাঁরা এই অ্যাপ (গেম) ডাউনলোড করেছেন, তাঁরা যেন অবিলম্বে এটি মুছে ফেলেন এবং দেশের আইন মেনে চলেন।
এক দিন আগে অর্থাৎ গতকালও হংকংয়ে গেমটি গুগল প্লে বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যেত। তবে আজ বুধবার থেকে এটি আর প্লে স্টোরে নেই এবং ডাউনলোড করাও যাচ্ছে না। তবে পুলিশের এই নিষেধাজ্ঞাই যেন গেমটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ হংকংয়ে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে গেমটির নাম।
তবে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে গেম নির্মাতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গোটা হংকং আমাদের গেমটি চিনে ফেলেছে।’
হংকংয়ে ২০১৯ সালের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর থেকেই বেইজিং কঠোরভাবে বিরোধী মত দমন করে আসছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির পর এসব পদক্ষেপ আরও বেড়ে গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বিচ্ছিন্নতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ—এই চারটি অভিযোগে শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনের আওতায় গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া মুঘল জিমি লাই, অ্যাকটিভিস্ট জোশুয়া ওয়াংসহ অনেকেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, হংকং ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলে চীন হংকংয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ৫০ বছর পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে অনেকের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। অন্যদিকে বেইজিং ও হংকং কর্তৃপক্ষ বলছে, এই আইন ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

ইরানিরা তুরস্কের ‘ক্যাপিকয়’ সীমান্ত গেট দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরান থেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘তেহরানের পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই কঠিন। বোমা হামলা হচ্ছে। সবাই ভীত।’ তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা বর্তমানে তুরস্কেই রয়েছেন।
২ মিনিট আগে
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৫টি যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্পেনের রোটা অ্যান্ড মোরন সামরিক ঘাঁটিটি স্পেনের সার্বভৌমত্ব বজায়...
৫ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বেইজিং একে ‘জঙ্গলের আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।
১৭ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযান ‘অন্তহীন কোনো যুদ্ধ’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ভবিষ্যতে ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি। আজ সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
১ ঘণ্টা আগে