অলস চোখ বা অ্যাম্বলিওপিয়া হলো শিশুদের সাধারণ চোখের সমস্যা। এ ক্ষেত্রে চোখের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে না। সাধারণভাবে চোখ সুস্থ থাকলেও মস্তিষ্ক একটি চোখ থেকে সঠিক সংকেত গ্রহণে ব্যর্থ হয়। ফলে একটি চোখ কম কার্যকর হয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চোখের দৃষ্টি দুর্বল হয়ে যায়। বাংলায় একে অনেক সময় ‘কুঁড়ে চোখ’ বা ‘অলস চোখ’ বলা হয়।
অলস চোখের কারণ
এই রোগের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে—
চোখ বাঁকা হওয়া: দুটি চোখ সঠিকভাবে একই বিন্দুতে ফোকাস করতে না পারলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয় এবং একটি চোখের সংকেতকে উপেক্ষা করা শুরু করে।
চশমার পাওয়ার সমস্যা: এক চোখে বেশি বা কম পাওয়ার থাকলে মস্তিষ্ক তুলনামূলক ভালো চোখের দৃষ্টি গ্রহণ করে এবং অন্য চোখটিকে অবহেলা করে।
অবরোধজনিত সমস্যা: যেমন জন্মগত ছানি, চোখের পাতার ত্রুটি ইত্যাদি কারণে দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হলে অলস চোখ তৈরি হয়।
উপসর্গ
অলস চোখে সাধারণত খুব সুস্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ জন্য অনেক সময় বাবা-মা কিংবা শিক্ষক প্রথমে বুঝতে পারেন না। তবে এর কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—
» শিশু এক চোখ ঢেকে দিলে বিরক্ত বা অস্থির হয়।
» চোখে চোখে সমন্বয়ের বিষয়টি ঠিক থাকে না।
» এক চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি কম হওয়া।
» পড়াশোনায় বা খেলাধুলায় মনোযোগে সমস্যা হওয়া।
রোগনির্ণয়
অলস চোখ শনাক্ত করার জন্য শিশুদের দৃষ্টি পরীক্ষা করানো খুব জরুরি। সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর বয়সে চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানো হলে এ সমস্যা সহজে ধরা পড়ে। তবে চক্ষুবিশেষজ্ঞরা ভিজুয়াল অ্যাকুইটি টেস্ট, কাভার টেস্ট অথবা রিফ্রাকশন টেস্ট করার মাধ্যমে অলস চোখ চিহ্নিত করতে পারেন।
চিকিৎসা
অলস চোখের চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যায়, ফল তত ভালো হয়। সাধারণত ৭ থেকে ৮ বছরের আগে চিকিৎসা শুরু করলে দৃষ্টি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর প্রধান চিকিৎসাপদ্ধতি হলো—
চশমা ব্যবহার: রিফ্রাকটিভ এররের কারণে সমস্যা হলে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে হবে।
প্যাচিং থেরাপি: সুস্থ চোখে পট্টি বেঁধে দুর্বল চোখকে কাজে লাগাতে বাধ্য করা হয়। এতে মস্তিষ্ক দুর্বল চোখের ব্যবহার বাড়ায়।
অ্যাট্রোপিন ড্রপ: সুস্থ চোখে ওষুধ ব্যবহার করে সাময়িক ঝাপসা করা হয়, যাতে শিশুটি দুর্বল চোখ দিয়ে দেখতে অভ্যস্ত হয়।
সার্জারি: ছানি বা চোখ বাঁকা হওয়ার কারণে সমস্যা হলে অস্ত্রোপচারের দরকার হতে পারে।
প্রতিরোধ
» অলস চোখ প্রতিরোধের ভালো উপায় হলো শিশুর চোখের নিয়মিত পরীক্ষা করানো। জন্মের পর থেকে চোখে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া—
» স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে একবার চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি।
» শিশু খুব কাছে বসে টিভি দেখলে বা অনেক সময় এক চোখ ঢেকে রাখলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে