
চলতি বছরে বাংলাদেশে নতুন করে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫০ জন। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৬৬ জনের। এক বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যু রোগীর সংখ্যার বিচারে এটি সর্বোচ্চ। সেই হিসাবে প্রতিদিন দেশে তিনজনের বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হন।
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মিলনায়তনে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়, ১৯৮৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে এইডস আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮৬ জনের। এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যু হয় ২০২২ সালে, সেই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৪৭ জন ও মৃত্যু হয়েছিল ২৩২ জনের। এর আগে, ২০২১ সালে দেশে এইডস শনাক্ত হয়েছিল ৭২৯ জনের, তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ২০৫ জনের।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘এইডসে আক্রান্তদের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ। সরকার বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এরপরেও এই রোগ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সার্জারির সময় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বারবার ব্যবহার করা হয়, এ থেকেও এই রোগ ছড়ায়।’
এ সময় এইডস নিয়ে সচেতনতার অভাবের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এইডস সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ জানতে পারে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সময়। তখন এইডসের পুরো মিনিং জানতে হয়। এ ছাড়া এইডস নিয়ে আর কোনো প্রচার নেই, এটা আমাদের বড় একটা ঘাটতি। দেশের সব হাসপাতালে এইডসের চিকিৎসা নেই, বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালও নেই।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘এইডস নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রথম টার্গেট এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা। এইডস শনাক্তের হার ৯৫ শতাংশ হলে আমাদের সফলতা আসবে। আমাদের শনাক্তের হার এখন ৭৫ শতাংশ, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। বাকি ২৫ শতাংশ এই রোগ বহন করছে এবং তাদের থেকে ছড়াচ্ছে।’
অধিদপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ২৫০ জনের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পুরুষ যৌনকর্মী (সমকামী) ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। এইচআইভির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হলো—শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী এবং হিজড়া। একসময় এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যেই এইচআইভি বেশি হতো। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসছে, আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সমকামীদের মধ্যে।
বিগত ২০২২ সালে দেশের ৯টি কারাগারে এইচআইভি/এইডস কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরে ৯টি কারাগার থেকেও প্রায় ৭ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই মাদক মামলার কয়েদি।
দেশে আনুমানিক ১৪ হাজার ৫০০টি এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৯ হাজার ৭০৮ জন শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার রোগী ১৩টি হাসপাতালের মাধ্যমে বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলায় অস্বাভাবিকভাবে এইচআইভি সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই জেলায় ১৪৪ জন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্বে ১৯৮৮ সাল থেকে এইডসের কারণে মৃত ব্যক্তিদের মর্যাদা দান এবং এইডস আক্রান্তদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নেতৃত্বে ঢাকাসহ দেশব্যাপী এইডস দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে এই দিবসটি পালিত হবে।

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে