খাবার আমাদের শরীরের জ্বালানি। পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীর শারীরিক গঠন এবং কোষের কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন খাবার প্রয়োজন হয়। সেই খাবারই আমাদের শরীর সুস্থ-সবল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু খাবার শরীরের চাহিদা অনুযায়ী না হলে তা বিপরীত কাজ করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের খাবারের তালিকার একটা বড় অংশ দখল করে আছে আলট্রা প্রসেস ফুড বা ইউপিএফ। এর সহজ কোনো সংজ্ঞা নেই। এগুলো প্রাকৃতিক খাদ্য বা অন্যান্য জৈব যৌগ থেকে সংশ্লেষিত করা হয়। আলট্রা প্রসেস ফুড অতি স্বাদযুক্ত ও লাভজনক করার জন্য প্রিজারভেটিভ, রং ছাড়াও অনেক রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়। যেমন চিনি, উদ্ভিজ্জ তেল, কৃত্রিম মিষ্টি, একাধিক প্রিজারভেটিভ, ইমালসিফায়ার, সরবিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট, ডেটেম, মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট ও মনোগ্লিসারাইডের ক্ষতিকর সব উপাদান। এসব খাবার তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো পুষ্টিমানকে প্রাধান্য না দিয়ে বা কম প্রাধান্য দিয়ে ব্যবসায়িক চিন্তাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
আলট্রা প্রসেস ফুড স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। একটি খাবার যত বেশি প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তার পুষ্টিগুণ তত বেশি কমতে থাকে। সে ক্ষেত্রে আলট্রা প্রসেস ফুডের পুষ্টিমান, প্রাকৃতিক খাবারের তুলনায় নেই বললেই চলে। এসব খাবার যারা খায়, তাদের ওজন বেড়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় আলট্রা প্রসেস ফুড খেলে কোলন ক্যানসারসহ অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা
অতিরিক্ত মাত্রার প্রক্রিয়াজাত খাবারে সচরাচর উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও চর্বি এবং কম আঁশ থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে যাবে। ওজন বাড়লে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে। আমাদের চারপাশে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই আলট্রা প্রসেস ফুড। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে প্রতি সপ্তাহে শরীরে প্রায় এক কেজি চর্বি বাড়তে পারে।
এ ধরনের খাবারে যেসব রোগের আশঙ্কা আছে

খাদ্যনালির ক্যানসার
সারা দিনের মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের বেশি ক্যালরি আলট্রা প্রসেস ফুড থেকে নিলে সামগ্রিক ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে নাইট্রেট ও নাইট্রাইটস-সমৃদ্ধ রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। যেমন সসেজ, হ্যাম, বেকন, হটডগ ও প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়াম নাইট্রাইট ব্যবহার করা হয়। এটি উচ্চ তাপের সংস্পর্শে নাইট্রোসামিন গঠন করে। নাইট্রোসামিন একটি কার্সিনোজেন যৌগ, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে করে।

হৃদ্রোগ
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সচরাচর শর্করা, চিনি এবং অতিরিক্ত চর্বিসমৃদ্ধ হয়ে থাকে। এ ধরনের ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে রক্তে ভালো চর্বি অথবা এইচডিএলের পরিমাণ কমে এবং খারাপ চর্বি বা এলডিএলের পরিমাণ বাড়ে। এইচএলডিএল উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হার্টের ব্লকের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রায়ই অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোলন ক্যানসার
প্রোটিনজাতীয় আলট্রা প্রসেস ফুডে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায়। মাছ ও মাংসকে উচ্চ তাপমাত্রায় প্রক্রিয়া করার সময় এগুলো তৈরি হয়। যেমন চিকেন গ্রিল, চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই ইত্যাদি। এই উপাদানগুলো কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
উচ্চতাপে প্রসেস করা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ এ ধরনের খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামক রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়। যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ক্র্যাকার, চিপস ও তেলে ভাজা বিস্কুট। এ ধরনের খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। এতে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এডিএইচডি
শিশুরাও আলট্রা প্রসেস ফুডে অভ্যস্ত হচ্ছে। এসব খাবারে অন্যতম উপাদান মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট।
যা শিশুদের অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার বা এডিএইচডি তৈরি করতে পারে। এটি শিশুর অতি চঞ্চলতা ও অমনোযোগের সমস্যা এবং বিকাশজনিত একটি সমস্যাও।
এ ছাড়া গর্ভকালে কোনো মা যদি নিয়মিতভাবে আলট্রা প্রসেস ফুডে অভ্যস্ত হন, সে ক্ষেত্রে এর প্রভাব শিশুর ওপর পড়ার সম্ভাবনা বেশি। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে এর খারাপ প্রভাবগুলো সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হবে, এমনটা নয়। দীর্ঘদিন এসব খাবারে অভ্যস্ত থাকলে এর ক্ষতিকর দিকগুলো দৃশ্যমান হতে থাকে।
পরামর্শ দিয়েছেন: জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে