ফেদেরিকো ভালভার্দে উরুগুয়ের নতুন সেনাপতি
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হলেও তাঁর কামের ব্যাপ্তি কিন্তু অনেক বড়। কখনও মাঝমাঠের প্রাণ, কখনও উইংয়ের গতি, কখনও রক্ষণভাগের অতিরিক্ত ঢাল, আবার কখনও আক্রমণের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র। দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ফেদেরিকো ভালভার্দে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর যে ‘সবই করতে পারার’ পরিচয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার সেটাই দেখতে চাইছেন উরুগুয়ের ফুটবলপ্রেমীরা। রক্ষণে যেমন কার্যকর, আক্রমণেও তেমন ভয়ংকর ভালভের্দের সবচেয়ে বড় গুণ তার অশেষ প্রাণশক্তি। মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিরলস দৌড়ানো, বল কেড়ে নেওয়া, আবার আক্রমণে উঠে গিয়ে শট নেওয়া—সবই করতে পারেন সমান দক্ষতায়। এই কারণেই তাঁকে নিয়ে কোচদের প্রশংসার শেষ নেই।
উরুগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসার ভাষায়, ভালভের্দে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের পজিশন ও ভূমিকা বদলে ফেলতে পারেন অনায়াসে। কখনও রাইট-ব্যাক, কখনও উইং, কখনও মাঝমাঠ—সব জায়গাতেই তিনি সমান কার্যকর।
পরিসংখ্যানও তার গুরুত্বের প্রমাণ দেয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলেছেন তিনি। এই কারণেই অনেকের চোখে তিনি ‘মিস্টার রিলায়েবল’।
মজার ব্যাপার হলো, ক্যারিয়ারের শুরুতে গোল করার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না ভালভার্দে। একসময় মজা করে আনচেলত্তি বলেছিলেন, মৌসুমে তাকে ১০ গোল করাতে না পারলে নিজের কোচিং ব্যাজ ছিঁড়ে ফেলবেন। শেষ পর্যন্ত ইতালিয়ান কোচকে সেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়নি। ওই মৌসুমেই ১২ গোল করেন ভালভের্দে।
জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য এখনও বড় কোনো ট্রফি জেতা হয়নি তার। ২০২২ বিশ্বকাপ ছিল তাঁর প্রথম। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় উরুগুয়ে। সমান পয়েন্ট ও সমান গোল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে কম গোল করায় ছিটকে পড়ে তারা। সেই হতাশা এবার পেছনে ফেলতে চায় উরুগুয়ে। এ ক্ষেত্রে দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা ও যোদ্ধার নাম ফেদেরিকো ভালভার্দে।
.gif)
.gif)





