Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
# সেন্টার ফরোয়ার্ড

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

পর্তুগাল
পর্তুগাল
আল নাসর
জন্ম তারিখ০৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫
পছন্দের পা
ক্লাবআল নাসর
দলপর্তুগাল
গোল
ক্যাপস

পরিচিতি

বয়সের ব্যারিয়ার ভেঙে অদম্য রোনালদো

গোল, গতি, জেদ, সাফল্য-ক্ষুধা আর ভরপুর আত্মবিশ্বাসেরই অবিশ্বাস্য এক মিশেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ফুটবলে এমন কিছু নেই, যা তিনি জেতেননি। ইতিহাসের প্রথম কোনো ফুটবলার যদি হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে পারেন, তিনি রোনালদো। কিন্তু তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেও রয়ে গেছে বিশাল এক শূন্যতা—বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো হাতে তোলা হয়নি তাঁর।

মাদেইরার ছোট্ট শহর ফুশাল থেকে শুরু হওয়া এক কিশোরের স্বপ্ন আজ ইতিহাসের অংশ। স্পোর্তিং লিসবনে প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে খুব দ্রুতই জায়গা করে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানেই নিজেকে বিশ্বসেরার কাতারে নিয়ে যান তিনি। পরে রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে যেন নতুন এক রোনালদোর জন্ম হয়—রেকর্ড ভাঙা, গোলের পর গোল করা আর ট্রফি জেতাকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেন পর্তুগিজ এই উইঙ্গার।

রিয়ালের জার্সিতে ৪৫০ গোল, একাধিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, পাঁচটি ব্যালন ডি’অর—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন রোনালদো। এরপর জুভেন্তাস ও পরে সৌদি আরবের আল নাসরে গিয়েও থামেননি। বয়স ৪১ ছুঁইছুঁই হলেও গোলের ক্ষুধা এখনো আগের মতোই তীব্র।

রোনালদোকে আলাদা করেছে শুধু তাঁর প্রতিভা নয়, নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন দুরন্ত গতির উইঙ্গার, ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এক তরুণ। সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছেন নিখুঁত গোলমেশিন। দূরপাল্লার শট, ফ্রি-কিক, হেড—সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর। বয়সের ভারে গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু গোলের গন্ধ শোঁকার ক্ষমতা এখনও ঈর্ষণীয়।

২০০৩ সালে ম্যানচেস্টারে যোগ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন তিনি। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে তিনি হয়ে ওঠেন পূর্ণাঙ্গ তারকা। এরপর রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে যেন নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। গোলের পর গোল করে রীতিমতো রেকর্ডের সংজ্ঞাই পাল্টে দেন। ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন তিনি, জেতেন একের পর এক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

জাতীয় দলের জার্সিতেও রোনালদো তৈরি করেছেন অন্যরকম ইতিহাস। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ—দুই রেকর্ডই এখন তার দখলে। ২০১৬ সালে ইউরো জিতে তিনি পর্তুগালকে এনে দেন প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। নেশন্স লিগও জিতেছেন দুইবার। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—এই দুই প্রতিযোগিতায়ও টপ স্কোরার তিনি। ক্লাব ফুটবলই হোক কিংবা জাতীয় দলের জার্সিতে—ব্যক্তিগত অর্জনে কোনো কমতি নেই তাঁর। প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে অন্তত গোলের সেঞ্চুরি করার কীর্তি তাঁর। আল নাসরের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি করার আগে রিয়ালের হয়ে ক্লাব রেকর্ড ৪৫০টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৪৫টি ও জুভেন্তাসের হয়ে ১০১টি গোল করেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচ বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই গোল করার র্কীর্তি গড়েছেন। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া, ২০১৮ সালে স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক কিংবা ২০২২ সালে টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার ইতিহাস—সবই আছে। নেই শুধু ট্রফিটা। সোনালি সেই ট্রফি কি এবার ধরা দেবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাতে।

অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়