Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
আর্লিং হালান্ড
# স্ট্রাইকার

আর্লিং হালান্ড

নরওয়ে
নরওয়ে
ম্যানচেস্টার সিটি
জন্ম তারিখ২১ জুলাই ২০০০
পছন্দের পা
ক্লাবম্যানচেস্টার সিটি
দলনরওয়ে
গোল
ক্যাপস

পরিচিতি

আর্লিং হালান্ড: গোলমেশিনের আরেক নাম

আধুনিক ফুটবলে ‘স্ট্রাইকার’ শব্দটির নতুন সংজ্ঞা যেন আর্লিং হালান্ড। উচ্চতা, শক্তি, গতি আর অবিশ্বাস্য গোল করার ক্ষুধা—সব মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ফরোয়ার্ডদের একজন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য হালান্ড মানেই আতঙ্ক, আর গোলপোস্টের সামনে তিনি যেন এক নির্মম শিকারি।

নরওয়ের ছোট শহর থেকে উঠে এসে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন হালান্ড। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে তাঁর গোলবন্যা ইউরোপকে প্রথম বড়ভাবে চমকে দেয়। এরপর ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলেও তিনি খুব দ্রুত হয়ে ওঠেন আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।

হালান্ডের খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর গোল করার সহজাত ক্ষমতা। বক্সের ভেতরে তিনি সবসময় সঠিক জায়গায় থাকতে পারেন। অনেক সময় মনে হয় বল যেন নিজেই তাঁকে খুঁজে নেয়। ডান পা, বাঁ পা কিংবা হেড—সবভাবেই গোল করতে পারেন তিনি। তাঁর ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত যে অল্প সুযোগ পেলেও সেটাকে গোলে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।

শুধু গোল নয়, হালান্ডের শারীরিক শক্তিও তাঁকে আলাদা করে তোলে। লম্বা ও শক্তিশালী হওয়ায় ডিফেন্ডারদের সঙ্গে শারীরিক লড়াইয়ে তিনি বেশিরভাগ সময় এগিয়ে থাকেন। আবার আশ্চর্যজনকভাবে এত বড় শরীর নিয়েও তাঁর গতি অসাধারণ। কাউন্টার অ্যাটাকে জায়গা পেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দিতে পারেন।

খেলার ধরণে হালান্ড অনেকটা ‘ক্লাসিক নাম্বার নাই’-এর আধুনিক সংস্করণ। তিনি খুব বেশি ড্রিবল করেন না বা মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করেন না। বরং গোলের আশপাশে থেকে আক্রমণ শেষ করাই তাঁর প্রধান কাজ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বল ধরে রাখা, সতীর্থদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা এবং প্রেসিংয়েও উন্নতি করেছেন তিনি।

তবে তাঁর কিছু দুর্বলতার জায়গাও আছে। খুব ঘন ডিফেন্সের বিপক্ষে কখনও কখনও তাঁকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। ম্যাচে যদি পর্যাপ্ত সার্ভিস না পান, তাহলে প্রভাব কমে যেতে পারে। ছোট জায়গায় দ্রুত পাসিং নির্ভর ফুটবলে তিনি সবসময় সমান কার্যকর নন। এছাড়া চোটও মাঝে মাঝে তাঁর ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলেছে।

অর্জনের দিক থেকে আর্লিং হালান্ড ইতিমধ্যেই অসাধারণ এক ক্যারিয়ার গড়ে ফেলেছেন। ম্যানসিটির হয়ে তিনি জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং একাধিক ঘরোয়া শিরোপা। গোলসংখ্যার দিক থেকে তিনি অনেক রেকর্ডও ভেঙেছেন। খুব কম বয়সেই ইউরোপের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন।

তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো এখনও জাতীয় দলের জার্সিতে বড় কোনো সাফল্য না পাওয়া। নরওয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপের বাইরে থাকায়, হালান্ডের বিশ্বমঞ্চে নিজেকে পুরোপুরি দেখানোর সুযোগও সীমিত ছিল। কিন্তু ফুটবলবিশ্ব বিশ্বাস করে, তাঁর মতো একজন স্ট্রাইকার যেকোনো সময় নরওয়েকে বড় টুর্নামেন্টে তুলে আনতে পারেন।

বর্তমান ফর্মের কথা বললে, হালান্ড এখনও ইউরোপের সবচেয়ে ধারাবাহিক গোলস্কোরারদের একজন। ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে বাড়তি চাপ। গোল করার প্রবল ক্ষুধা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা তাঁকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে।

বিশ্ব ফুটবলে আর্লিং হালান্ড এখন শুধু একজন স্ট্রাইকার নন; তিনি এক গোলমেশিন, যাঁর সামনে রেকর্ডগুলোও যেন খুব ছোট হয়ে যায়।

অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়