
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুজনের মধ্যে জাতীয় দলে সাবেকের খাতায় অনেক আগেই নাম লিখিয়েছেন মাশরাফি, ইতিমধ্যে সাকিব আল হাসান ক্রিকেটের দুই সংস্করণ টি–টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আবার দুজনেই ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। দলটির মনোনয়ন নিয়ে মাগুরা–১ আসন থেকে দ্বাদশ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন সাকিব আল হাসান, নড়াইল–২ আসন থেকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন মাশরাফি। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুজনের নামেই হয়েছে মামলা। তাঁদের দুজনের নামে গরু চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে দাবি করে সম্প্রতি ফেসবুকে বেসরকারি টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে।
‘ইমতিয়াজ সৌরভ (Imtiaj Sourav)’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল সোমবার (৭ অক্টোবর) যমুনা টিভির লোগোযুক্ত ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। তাঁর পোস্টটি আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত শতাধিক শেয়ার হয়েছে। রিয়েকশন পড়েছে হাজারের অধিক। কমেন্ট হয়েছে দেড় শতাধিক। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ফটোকার্ডটি সত্য ভেবে মন্তব্য করেছেন। যেমন, সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া নামে একজন লিখেছেন, ‘যারা ভুয়া মামলায় বাদী হয়, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’ জে এইচ ইমন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘যে এই মামলা করছে, আর যে এই মামলা রুজু করছে৷ ওই দুইটা সবচেয়ে বড়ো গরু।’
আবার যারা ফেসবুকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন, তাদেরও অনেকে এটিকে সত্য ভেবে শেয়ার করেছেন। জুয়েল মাহমুদ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘এই হলো দেশের মামলার অবস্থা।’ রতন সাহা নামে আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরা দুজনেই ছিল আওয়ামী লীগের সাংসদ। তাই এদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত গরু চুরির মামলা রুজু করল ড. ইউনূসের সরকার। দেশের শীর্ষ দুই ক্রীড়াবিদের বিরুদ্ধে এমন মামলা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব।’
এসব অ্যাকাউন্টসহ ফেসবুকের আরও অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকেও ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়েছে। তবে পোস্টগুলোর কোথাও গরু চুরি মামলায় সাকিব–মাশরাফির আসামি হওয়ার ব্যাপারে শেয়ার করা ফটোকার্ডটির ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদনের লিংক শেয়ার করা হয়নি।
যমুনা টিভির কথিত ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ দেওয়া ৫ অক্টোবর, ২০২৪। যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো খুঁজে এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। যমুনা টিভির দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমটির ব্যবহৃত ফন্টেরও পার্থক্য দেখা যায়। কথিত এই কার্ড ছাড়া অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত যে, গরু চুরি মামলায় সাকিব–মাশরাফির আসামি হওয়ার ব্যাপারে ফেসবুকে ছড়ানো যমুনা টিভির কথিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হচ্ছে। রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিক্ষোভের সময় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যার ঘটনায় গত ২২ আগস্ট করা মামলায় সাকিব আল হাসানকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়।
আন্দোলনের সময় নড়াইলে মিছিলে গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও মারধর করার অভিযোগে মাশরাফির বিরুদ্ধে গত ১০ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা হয়। আবার ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) দল সিলেট স্ট্রাইকার্সের মালিকানা জোর করে লিখে নেওয়ার অভিযোগে মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে আরও একটি মামলা করা হয় রাজধানীর পল্লবী থানায়।
আরও পড়ুন:

ভারতে মসজিদের ইমামদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন—‘পশ্চিমবঙ্গে ধারণ করা ভিডিও ছাত্রলীগের মিছিল বলে ফেসবুকে প্রচার করছে দেশবিরোধী চক্রের সদস্যরা।
১৫ ঘণ্টা আগে
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন জামায়াতের এক তরুণ নেতা—এমন দাবিতে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলা টিভি’র লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিছিল দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ খেলা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেমে গেছে মুজিব সৈনিকরা।’
৪ দিন আগে