
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। গত ৪ জানুয়ারি রোজা আহমেদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। এই বিয়ে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে চলছে উন্মাদনা। এর মধ্যে তাহসানের বিয়ের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিয়ের পোশাক পরা এক যুবক মাথা নিচু করে নিকাহনামায় স্বাক্ষর করছেন, অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তিনি কাঁদছেন। ভিডিওটির নিচে ক্যাপশনে লেখা, ‘হয়তো মিথিলার কথা বার বার মনে পরছে।’ আবার ভিডিওটির ভেতরে লেখা আছে, ‘তাহসান ২য় বিয়ে করতে গিয়ে অনেক কান্না করছে।’ একই ক্যাপশনে ভিডিওটি ইউটিউব ও টিকটকেও পোস্ট করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে ‘Lullu & Lolita’ (লুল্লু ও ললিতা) নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওটি সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটি আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং এতে ২ লাখ ৪০ হাজার ‘রিয়েক্ট’ পড়েছে। ভিডিওটিতে সাড়ে ৫ হাজারের মতো কমেন্ট করা হয়েছে।
এসব কমেন্টে কোনো কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ভিডিওটি তাহসানের বিয়ের ভিডিও নয়’ বলে উল্লেখ আছে। কোনো কোনো অ্যাকাউন্ট ‘এটি পাকিস্তানের কোনো ব্যক্তির বিয়ের ভিডিও’ বলেও কমেন্ট করেছে। আবার এটিকে ‘তাহসানের বিয়ের ভিডিও’ বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। টুম্পা ইসলাম (Tumpa islam) নামে এক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘সত্যি ভিডিওটা দেখে খুবই কষ্ট পাইলাম। ছেলেদের মনের মধ্যেও ভালোবাসা আছে মেয়েদের জন্য কান্না আসে।’
‘নিশাত নিশাত’ নামের অ্যাকাউন্ট লিখেছে, ‘মিথিলার কথা না, নিশ্চিত মেয়ের কথা ভেবে কেঁদেছেন।’
সত্যতা জানার উদ্দেশ্যে কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘ayankhtri1’ নামে টিকটক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পাওয়া যায়, যেটি ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।

ইংরেজিসহ দুটি ভাষায় ভিডিওটির ক্যাপশন লেখা ছিল। গুগলের ভাষা শনাক্তকারী টুলের সাহায্যে দেখা যায়, অপর ক্যাপশনটি উর্দু ভাষায় লেখা হয়েছে, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

ক্যাপশনটিতে লেখা হয়, ‘মা তোমার কথা মনে পড়ছে। আল্লাহ আমার মাকে ক্ষমা কর।’
অর্থাৎ, গত ৪ জানুয়ারি তাহসান ও রোজার বিয়ের বেশ আগেই ভিডিওটি টিকটকে আছে।
ayankhtri 1 নামে টিকটক অ্যাকাউন্টে একই বিয়ের ঘটনায় একই ব্যক্তির আরও কিছু ভিডিও পাওয়া যায়। এমন কিছু ভিডিও দেখুন ১, ২, ৩।
এই টিকটক অ্যাকাউন্টে আরও একটি ভিডিও পোস্টা করা হয়েছে। সেই ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে কবর জিয়ারত করতে দেখা যায়। সেটাতে ক্যাপশনে লেখা আছে, ‘মা তোমাকে মনে পড়ছে।’
এসব ভিডিও থেকে ধারণা করা যায়, মৃত মাকে মনে করেই হয়ত ওই ব্যক্তি বিয়ের দিন কাঁদছিলেন।
পরে ayankhtri1 নামে টিকটক অ্যাকাউন্টে গেলে ‘@tariq 00818’ নামে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টকে ফলো করতে বলা হয়।

সার্চ করে ‘@tariq00818’ নামে অ্যাকাউন্টটি টিকটক খুঁজে পায় আজকের পত্রিকা ফ্যাক্টচেক বিভাগ। তবে এতে বিয়ের এমন কোনো ভিডিও ছিল না। অ্যাকাউন্টটির বায়ো অপশনে ‘ayankhatri 11’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে ফলো করতে বলা হয়।
‘ayankhatri11’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গিয়ে ‘তাহসানের বিয়ের দৃশ্য’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পাওয়া যায়। পাশাপাশি টিকটক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা আরও কিছু ভিডিও সেখানে পাওয়া যায়।
অ্যাকাউন্টটির পরিচিতি সেকশনে গিয়ে জানা যায়, এটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়।

সুতরাং, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় তাহসান খানের বিয়ের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পাকিস্তানের এক যুবকের বিয়ের ভিডিও। সেই রোজাকে বিয়ের সময় মিথিলাকে মনে করে তাহসান কাঁদছেন— সেই দাবিটিও মিথ্যা। এমন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
১৬ মিনিট আগে
‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১ দিন আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
৩ দিন আগে