
গাজর খেলে চোখ ভালো থাকে বা অন্ধকারেও দেখা যায়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। অনেকের বিশ্বাস, নিয়মিত গাজর খেলে রাতকানা রোগ সেরে যায় কিংবা চোখের দৃষ্টিশক্তি ব্যাপকভাবে উন্নত হয়। সামাজিক মাধ্যমেও এ ধরনের দাবি প্রায়ই দেখা যায়।
তবে প্রচলিত এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। গাজর চোখের জন্য উপকারী হলেও এটি অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়—এমন প্রমাণ নেই।
দাবিটির উৎস কোথায়?
গাজর ও রাতের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জনপ্রিয় ধারণার পেছনে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য সরকার এবং ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্স একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে—রাডার। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্রিটিশ পাইলটরা অন্ধকারেও জার্মান বোমারু বিমান শনাক্ত করতে পারত।
বিশেষ করে ব্রিটিশ পাইলট জন কানিংহাম রাতের অভিযানে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। এ কারণে তাঁকে অনেকে ‘ক্যাটস আইজ’ বা বিড়ালের চোখ বিশিষ্ট বলেও ডাকত।
তবে ব্রিটিশরা চাচ্ছিল না, জার্মানরা তাদের রাডার প্রযুক্তির কথা জানতে পারুক। তাই তারা একটি কৌশলী প্রচারণা শুরু করে। প্রচার করা হয়, ব্রিটিশ পাইলটদের রাতের দৃষ্টিশক্তি এত ভালো কারণ তারা প্রচুর গাজর খায়।
পত্রিকায় এ নিয়ে খবর ছাপা হয়, পোস্টার তৈরি করা হয় এবং জন কানিংহামের নামও এতে যুক্ত করা হয়। বলা হতো, গাজর খাওয়ার কারণেই তিনি অন্ধকারে বিড়ালের মতো দেখতে পান।
এই প্রচারণাকে জনপ্রিয় করতে ব্রিটিশ মিনিস্ট্রি অব ফুড ‘ডক্টর ক্যারট’ নামে একটি কার্টুন চরিত্র তৈরি করে। সেই সময় ‘ক্যারটস কিপ ইউ হেলদি অ্যান্ড হেল্প ইউ টু সি ইন দ্য ব্ল্যাকআউট’ শিরোনামে নানা পোস্টারও প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমান হামলা থেকে বাঁচতে রাতে শহরের সব আলো নিভিয়ে ‘ব্ল্যাকআউট’ রাখা হতো। সেই অন্ধকারে মানুষকে আত্মবিশ্বাসী রাখতে গাজর খাওয়ার কথাও প্রচার করা হয়।
শোনা যায়, ব্রিটিশরা যেমন এই গল্প বিশ্বাস করেছিল, তেমনি জার্মান হাইকমান্ডও এতটাই বিভ্রান্ত হয়েছিল যে তারাও তাদের পাইলটদের গাজর খাওয়ানো শুরু করেছিল। এভাবেই ধীরে ধীরে গাজর ও অন্ধকারে দেখার শক্তি নিয়ে এই ধারণা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান কী বলে?
বৈজ্ঞানিকভাবে গাজরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে বিপাক প্রক্রিয়ায় ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন ‘এ’ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যদি কারও শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকে, তাহলে গাজর বা ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যাদের শরীরে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ আছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গাজর খেলে রাতের দৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উন্নত হবে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদমাধ্যম লাইভ সায়েন্স জানায়, গাজর ভিটামিন এ-এর ঘাটতি পূরণে সহায়ক হলেও এটি সুস্থ মানুষের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে না।
একইভাবে সায়েন্টিফিক আমেরিকা –এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করলে রাতের দৃষ্টি উন্নত হতে পারে। তবে এটি ঘাটতি পূরণের ফল, অতিরিক্ত গাজর খাওয়ার কারণে নয়।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথালমোলজির তথ্য অনুযায়ী, রাতকানা বা নাইট ব্লাইন্ডনেস কোনো একক রোগ নয়; বরং এটি একটি উপসর্গ। কম আলোতে দেখার ক্ষমতা কমে গেলে, সেই সমস্যাকে রাতকানা রোগ বলা হয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি। ভিটামিন ‘এ’ চোখের রেটিনায় থাকা রড কোষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কোষগুলো কম আলোতে কাজ করে এবং রোডোপসিন নামের একটি আলোক সংবেদনশীল উপাদান তৈরিতে সাহায্য করে। শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কমে গেলে রোডোপসিন যথেষ্ট তৈরি হয় না, ফলে কম আলোতে দেখতে সমস্যা হয়।
তবে সব রাতকানা রোগ ভিটামিন এ-এর অভাবের কারণে হয় না। জিনগত সমস্যা, যেমন রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা, ছানি, ডায়াবেটিসজনিত রেটিনার জটিলতা বা অন্যান্য চোখের রোগ থেকেও কম আলোতে দেখার সমস্যা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু গাজর খেলে সমস্যার সমাধান হয় না; প্রয়োজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা।
বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?
চোখ বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজর চোখের জন্য উপকারী হলেও এটি স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয় না। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথালমোলজি–এর ক্লিনিক্যাল মুখপাত্র রেবেকা টেলর বলেন— ভিটামিন ‘এ’ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তিকে অতিরিক্ত উন্নত করে না। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ তৈরি করে, যা চোখের রেটিনায় থাকা রড কোষের কাজে সহায়তা করে এবং কম আলোতে দেখার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত গাজর খেয়ে দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো সম্ভব না।
সিদ্ধান্ত
‘গাজর খেলে রাতকানা সেরে যায়’—এই বক্তব্যটি আংশিক সত্য। যদি রাতকানার কারণ হয় ভিটামিন এ-এর ঘাটতি, তাহলে গাজর খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে গাজর খেলে অন্ধকারে বেশি দেখা যায় বা সবার রাতকানা সেরে যায়—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

ভারতের এক জেনারেল বলেছেন, ইরান যদি পরাজিত হয়, তাহলে সেটিই হবে ভারতের সাফল্য—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আলোচিত দাবিতে একটি ছবিও প্রচার করা হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
তেল আবিবের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি তেল আবিব বিমানবন্দরের ঘটনার দৃশ্য।
৯ ঘণ্টা আগে
দিল্লির কাছে ভারত-ইসরায়েল যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ‘নক্সালি’ বিদ্রোহীরা দিল্লির কাছে ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের।
১ দিন আগে
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের হামলার ভয়ে ইসরায়েলের জেরুজালেমে ‘গডকে লেখা চিঠি’ বা প্রার্থনার নোট সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
৫ দিন আগে