Ajker Patrika

ফ্যাক্টচেক /বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী: রহস্য নাকি বানোয়াট গল্প

আসিফ মাহমুদ
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী: রহস্য নাকি বানোয়াট গল্প
বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী বাবা ভাঙ্গা। ছবি: স্ক্রিনশট

ইন্টারনেটের জগতে রহস্যময় এক নাম প্রায়ই ফিরে আসে বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী ও তথাকথিত ‘ভবিষ্যৎদ্রষ্টা’ —বাবা ভাঙ্গা। বুলগেরিয়ান ভাষায় ‘বাবা’ শব্দটির অর্থ ‘বয়স্ক নারী’ বা ‘দাদি’। এটি স্নেহ ও সম্মানের সঙ্গে বয়স্ক নারীর সম্বোধনে ব্যবহৃত হয়। কেউ বলেন তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, কেউ আবার মনে করেন তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয়, তিনি নাকি আগেই বলে গিয়েছিলেন ৯/১১ হামলা, কোভিড–১৯ মহামারি, কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বড় বড় ঘটনার কথা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ছাড়াও জাতীয়আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও। কোথাও আবার বলা হচ্ছে, ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে বা মানুষ প্রথমবারের মতো ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে—এসবও নাকি বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী।

বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট
বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

এ ধরনের দাবি সহজেই মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। তবে বুলগেরিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবা ভাঙ্গার নামে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী ছড়ানো হয় তার বেশিরভাগই সম্ভবত তিনি কখনো বলেননি। তাঁদের মতে, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘বালকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস’ (‘ভবিষ্যৎদ্রষ্টা’ বা ‘গণক’) নামে পরিচিত এই নারীকে ব্যবহার করে নানা গল্প, কল্পনা ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হয়েছে।

বুলগেরিয়া ভিত্তিক ‘বাবা ভাঙ্গা ফাউন্ডেশন’-এর বর্তমান মুখপাত্র ইভান দ্রামভ বলেন, ‘এটি হাস্যকর।’ তিনি টিকটক, ইউটিউব এবং ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড থেকে শুরু করে আলবেনিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত পারমাণবিক বিপর্যয় বা বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কাল্পনিক দর্শনের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন।

দ্রামভ আরও বলেন, ‘এই পবিত্র নারী সম্পর্কে ডাহা মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। ভাঙ্গা মূলত মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতেন, বিশ্বের আসন্ন কোনো বিপর্যয় নিয়ে নয়।’

বিশ্বজুড়ে ‘বাবা ভাঙ্গা’ নামে পরিচিত ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্দেভা গুশতেরোভা ১৯১১ সালে তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান—এমন গল্প প্রচলিত রয়েছে।

ভক্তদের মতে, সেই অন্ধত্বই তাঁর ‘দিব্যচক্ষু’ খুলে দেয় এবং তিনি ‘ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা’ লাভ করেন। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও বাবা ভাঙ্গা বুলগেরিয়া ও এর বাইরে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক বিষয়—সব ক্ষেত্রেই মানুষ তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে যেত। তিনি ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত, তথা সুদূরভবিষ্যতের বিভিন্ন বিষয়ে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করে গেছেন বলে দাবি করা হয়। তাঁর কিছু অনুমান নাকি পরবর্তীতে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে গেছে। এসবের মধ্যে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়—২০০০ সালে রুশ সাবমেরিন ‘কুর্স্ক’-এর দুর্ঘটনা, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা, বারাক ওবামার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মতো ঘটনা। অনেকেই দাবি করেন, বাবা ভাঙ্গা নাকি আগেই এসব ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

বুলগেরিয়ার একটি ছোট গ্রাম রুপিতে অবস্থিত সেই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের পাখির চোখে দেখা দৃশ্য, যেখানে বাবা বাঙ্গা জীবনের লম্বা সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ছবি: স্ক্রিনশট
বুলগেরিয়ার একটি ছোট গ্রাম রুপিতে অবস্থিত সেই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের পাখির চোখে দেখা দৃশ্য, যেখানে বাবা বাঙ্গা জীবনের লম্বা সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ছবি: স্ক্রিনশট

অন্যদিকে বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ঘটেনি। যেমন—২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা বা ২০২৫ সালে ভিনগ্রহের প্রাণীদের পৃথিবীতে আগমনের মতো দাবি। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথাকথিত সঠিক বা ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর কোনোটিরই নির্ভরযোগ্য লিখিত বা সমসাময়িক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই স্থানীয় মানুষ তাঁর কাছে যেতে শুরু করে। অনেকেই জানতে চাইতেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা তাঁদের স্বজনেরা ফিরে আসবেন কি না। ধীরে ধীরে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০-এর দশকে তিনি বুলগেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পেত্রিচ শহরে বসবাস করতেন এবং সেখানে বহু মানুষ তাঁর কাছে যেতেন। পরে রাশিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করে।

দ্রামভের মতে, ভাঙ্গার কথাবার্তা সাধারণত ব্যক্তিগত জীবনকেন্দ্রিক ছিল। তিনি মানুষকে বলতেন কোন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে বা কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর বেশি কিছু নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গার জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ে। টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বই ও নানা আলোচনায় উঠে আসে তাঁর জীবন ও কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প। বিশেষ করে রাশিয়ায় তাঁর প্রতি আগ্রহ ছিল অনেক বেশি।

২০২৪ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার কল্পনা ও সংস্কৃতিতে ভাঙ্গা ‘সত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাধ্যম’ হিসেবে বিবেচিত হন।

গবেষকদের মতে, রাশিয়ার সংস্কৃতিতে ভাঙ্গা এতটাই প্রভাব ফেলেছেন যে রুশ ভাষায় ‘ভাঙ্গোভাত’ নামে একটি শব্দও তৈরি হয়েছে, যার অর্থ ভবিষ্যদ্বাণী করা। আবার একটি প্রচলিত কথাও আছে, যার অর্থ দাঁড়ায়—‘আমি কীভাবে জানব, আমি কি বাবা ভাঙ্গা নাকি?’

বর্তমানে রাশিয়ায় তাঁর নাম ও কথিত ভবিষ্যদ্বাণী অনেক সময় রাজনৈতিক বয়ানকে শক্তিশালী করতেও ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালে বিআইআরএন আলবেনিয়ার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক বছরে আলবেনিয়ার ৩৬টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অন্তত ডজনখানেক প্রতিবেদনে ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ব্যবহার করা হয়েছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াতে।

গবেষকেরা দাবি করেন, বাস্তবে ভাঙ্গা রাশিয়া সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলেছেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তাঁর নামে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত, যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন বা রাশিয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ—এসবের অনেকটাই এসেছে রুশ লেখক ভ্যালেন্তিন সিদোরভের লেখালেখি থেকে। তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯৭০-এর দশকে তিনি ভাঙ্গার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে সেই সাক্ষাতের কোনো রেকর্ড নেই। ফলে তিনি নিজের https://gdil.org/the-vanga-files/ মতো করে ভাঙ্গার কথাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন বা নতুন করে তৈরি করেছেন বলেও ধারণা করা হয়।

পরবর্তীতে রাশিয়ায় একদল তথাকথিত ভাঙ্গা বিশেষজ্ঞ গড়ে ওঠে। তাঁদের অনেকে গত এক দশকে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, তাঁরা প্রায়ই তথ্য বিকৃত করেছেন বা নতুন গল্প তৈরি করেছেন, যা রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী ও পশ্চিমবিরোধী রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে মিলে যায়।

এভাবে ভাঙ্গাকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও পশ্চিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ছড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, ইতিহাসের তথ্য অস্পষ্ট হওয়া এবং এখনও অনেক মানুষের কাছে ভাঙ্গার আধ্যাত্মিক প্রভাব থাকায় তাঁকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হয়েছে।

বুলগেরিয়ায় বাবা ভাঙ্গার মূর্তি। ছবি: স্ক্রিনশট
বুলগেরিয়ায় বাবা ভাঙ্গার মূর্তি। ছবি: স্ক্রিনশট

বুলগেরীয় লেখক ও গবেষক জেনি কোস্তাদিনোভা বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ এবং সত্যের পার্থক্য তুলে ধরতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ভাঙ্গার জীবনের ওপর বই লিখেছেন। জেনি কোস্তাদিনোভা বলেন, ভাঙ্গা জীবিত অবস্থায় তাঁর কোনো বক্তব্য রেকর্ড করা হয়নি এবং তিনি নিজেও লিখিত কোনো নথি রেখে যাননি। তাই অনেকেই তাঁর নামে ইচ্ছামতো কথা প্রচার করছে। তাঁর ভাষায়, ‘অনেকে তাঁর মুখে এমন কথা বসিয়ে দেয় যা তিনি কখনো বলেননি।’

কোস্তাদিনোভা মনে করেন, ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আসলে ‘সত্য ও মিথের মাঝামাঝি’ অবস্থানে আছে, কারণ সেগুলো বেশিরভাগ সময়ই অন্যদের মাধ্যমে প্রচার ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তাঁর মতে, ‘কে ভাঙ্গার নাম ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেনি! প্রায় সব ধরনের প্রোপাগান্ডায়ই তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে নিজেদের পছন্দের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।’

ইভান দ্রামভ জানান, ভাঙ্গা নিজেও একসময় বলেছিলেন তাঁর নামের অপব্যবহার হবে। ১৯৮৯ সালে বুলগেরিয়ার কমিউনিস্ট শাসন ভেঙে পড়ার সময় থেকেই তাঁর ছবি ও নাম বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবহার হতে শুরু করে।

দ্রামভের ভাষায়, ‘তিনি বহুবার বলেছিলেন, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও মানুষ তাঁর নাম ব্যবহার করবে।’

এ ছাড়া ১৯৬০-এর দশকে বুলগেরিয়ার তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকার বাবা ভাঙ্গাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ’ ঘোষণা করে এবং তাঁর ওপর গবেষণায় উৎসাহ দেয়। বুলগেরীয় একাডেমি অব সায়েন্সেস গবেষক ড. গোর্গি লোজানভের যিনি ‘সাজেস্টোলজি’ (Suggestology) নিয়ে কাজ করতেন এবং ভাঙ্গার ওপর কয়েক হাজার কেস স্টাডি (ঘটনা বিশ্লেষণ) করেছিলেন। লোজানভের গবেষণায় দেখা যায়, ভাঙ্গার পরামর্শ বা রোগ নির্ণয়ের সাফল্যের হার প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল, তবে সেগুলো ছিল মূলত ব্যক্তিগত পর্যায়ের (যেমন: রোগ নিরাময় বা নিখোঁজ আত্মীয়ের সন্ধান), কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী নয়।

বাবা ভাঙ্গার সমাধিস্থল। ছবি: স্ক্রিনশট
বাবা ভাঙ্গার সমাধিস্থল। ছবি: স্ক্রিনশট

প্রশ্ন জাগে, কেন বাবা ভাঙ্গাকে ঘিরে এসব গুজব ও কথিত ভবিষ্যদ্বাণী এতদিন ধরে টিকে আছে? এর একটি বড় কারণ হলো লিখিত রেকর্ডের অভাব। বাবা ভাঙ্গা অন্ধ ছিলেন এবং তিনি নিজে কোনো কিছু লিখে রেখে যাননি। ফলে তাঁর নামে কোনো বক্তব্য প্রচার করা হলে সেটি যাচাই করা কঠিন।

আরেকটি কারণ হলো তাঁর কথাবার্তার ধরন। বলা হয়, তিনি অনেক সময় রূপক বা হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় কথা বলতেন। এই অস্পষ্টতার সুযোগে অনেকেই পরে নিজেদের মতো করে তাঁর কথার ব্যাখ্যা দাঁড় করান। যেমন, কোনো একটি অস্পষ্ট বর্ণনায় ‘ইস্পাতের পাখি’কে বিমান হামলার পূর্বাভাস হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্লিকবেইট সংস্কৃতিও বড় ভূমিকা রাখছে। সস্তা জনপ্রিয়তা বা বেশি পাঠক-দর্শক টানতে অনেক অনলাইন পোর্টাল ও ট্যাবলয়েড প্রায় প্রতি বছরের শুরুতে ‘বাবা ভাঙ্গার ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী’ শিরোনামে নানা বানোয়াট তালিকা প্রকাশ করে। এসব শিরোনাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে অনেকের কাছে সত্য বলে মনে হতে শুরু করে।

সুতরাং, বিভিন্ন সময় বাবা ভাঙ্গার নামে যেসব বৈশ্বিক ঘটনা, যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী প্রচার করা হয়, সেগুলোর অধিকাংশেরই কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। গবেষকদের মতে, এসব দাবি মূলত পরবর্তী সময়ে তৈরি করা ব্যাখ্যা, গুজব বা রাজনৈতিক বয়ানের ফল। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাবা ভাঙ্গার তথাকথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে যাচাই ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত