
সীমান্তে মাইন পুঁতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় এক গুপ্তচরকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ দাবিতে পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে।
‘BCAN Newsroom’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ৭ জুন দিবাগত রাতে (৮ জুন) একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘সীমান্তে মাইন পাতার সময় ভারতীয় গুপ্তচর আটক!’
শেয়ার করা পোস্টটি ৮ জুন বেলা ১টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজারবারের বেশি দেখা হয়েছে। এ ছাড়া, পোস্টটিতে ১০ হাজার রিঅ্যাকশন, ২৪১ কমেন্ট ও ২ হাজার ৩০০ শেয়ার রয়েছে।
শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনদের বড় অংশ ঘটনাটিকে সত্য মনে করে ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের শুরুতে ৩২ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে কয়েকজন সেনা দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। তবে ভিডিওর ক্যাপশনে বিজিবির কথা উল্লেখ করা হলেও, সেখানে দায়িত্বরত সেনাদের পোশাকের সঙ্গে বিজিবির পোশাকের কোনো মিল নেই; বরং দৃশ্যমান পোশাকের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পোশাকের মিল পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড নিয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে সীমান্তে মাইন পুঁততে গিয়ে ভারতীয় গুপ্তচর বা অনুপ্রবেশকারী আটকের মতো কোনো সংবাদের খবর পাওয়া যায়নি।
পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ‘ভোট কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে আটক’—শিরোনামে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি শেয়ার করা ওই ভিডিও প্রতিবেদনের দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মুন্সিগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পরে সেনাবাহিনী ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করে। একই ভিডিও ও তথ্য পাওয়া যায় যমুনা টেলিভিশনের প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনেও।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘মুন্সীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের বাইরে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ’ শিরোনামে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে মুন্সিগঞ্জের একটি ভোটকেন্দ্রের অদূরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রের অদূরের একটি মাঠে পরপর বিস্ফোরণ হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই এলাকায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাড়া করে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের আটক করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সিদ্ধান্ত
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর তাড়া করে আটক করার ভিডিওকে সম্প্রতি সীমান্তে মাইন পুঁতে অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় গুপ্তচর আটকের দাবি জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

ভারতে মসজিদের ইমামদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন—‘পশ্চিমবঙ্গে ধারণ করা ভিডিও ছাত্রলীগের মিছিল বলে ফেসবুকে প্রচার করছে দেশবিরোধী চক্রের সদস্যরা।
৯ ঘণ্টা আগে
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন জামায়াতের এক তরুণ নেতা—এমন দাবিতে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলা টিভি’র লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিছিল দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ খেলা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেমে গেছে মুজিব সৈনিকরা।’
৩ দিন আগে