
‘আজকে (১৯ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটেছে। হজের যাত্রী নিয়ে রাস্তার মধ্যে গাড়িটি উল্টে যায়। তারা সবাই বাংলাদেশি হজযাত্রী ছিল এবং সবাই মারা গেছে’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে আরও বলা হচ্ছে, নিহতদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছাতে লাইক ও শেয়ার করতে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে।
‘Thought Of Masud’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৯ এপ্রিল রাত ১১ দিকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। পোস্টটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট। শেয়ার করা ওই পোস্টটিতে ২০ এপ্রিল দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ৬৭০ রিয়েকশন রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ১৪৯ কমেন্ট এবং ৩৮৫ শেয়ার রয়েছে।
পোস্টের কমেন্ট যাচাই করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ লিখেছেন, ‘আল্লাহুম্মা আমিন’, কেউ লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ সকল হজ্বযাত্রীদের হজ্ব কবুল করুন। এবং সকল হজ্ব যাত্রীদের জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’, আবার কেউ বলেছেন, ‘এটা কি এআই দিয়ে বানানোর পোস্ট জায়গার নাম নেই ঘটনার সময় নেই’। (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত )
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছবিটিতে পাহাড়ি রাস্তার মাঝখানে একটি দুর্ঘটনাকবলিত বাস দেখা যাচ্ছে। পাশেই বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। সাদা কাপড় পরিহিত বেশ কিছু ব্যক্তিকে রাস্তায় শোয়া অবস্থায় দেখা যায়। ফেসবুক পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবে হজযাত্রীবাহী বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। ঘটনাটি ১৯ এপ্রিলের। পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বাসের সব যাত্রী বাংলাদেশি এবং সবাই মারা গেছেন।
পোস্টটিতে নিহতের সংখ্যা ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করা না হলেও ছবি দেখে মনে হয়, নিহত ২০ জন। হজের মৌসুমে এতোজন হজযাত্রী নিহত হলে অবশ্যই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হতো। কিন্তু ১৯ এপ্রিল দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দাবি করা হলেও আজ ২০ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম হাইভ মডারেশনের সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

এ ছাড়া রিভার্স ইমেজ সার্চেও ছবিটির কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস বা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমেও এমন কোনো দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ, ‘Thought Of Masud’ নামের পেজটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পেজে শেয়ার করা সব কনটেন্টই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি (১, ২)। পেজের ইন্ট্রোতে উল্লেখ রয়েছে—এই পেজের সকল ছবি ও ভিডিও এআই দ্বারা নির্মিত, যা বাস্তব নয়; বরং সম্পূর্ণ মনগড়া ও কাল্পনিক। তাই এসব ছবি বা ভিডিওকে কেউ যেন সিরিয়াসলি না নেন, এমন অনুরোধও জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ মার্চ ঈদযাত্রায় ট্রেন দুর্ঘটনা দাবিতে একটি ছবি ছড়ানো হয়েছিল একই ফেসবুক পেজ থেকে। আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ সেই ছবিটি এআই নির্মিত বলে শনাক্ত করেছিল।
সিদ্ধান্ত
হজযাত্রীদের বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন—দাবিটি মিথ্যা। ভাইরাল ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

ভারতে মসজিদের ইমামদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন—‘পশ্চিমবঙ্গে ধারণ করা ভিডিও ছাত্রলীগের মিছিল বলে ফেসবুকে প্রচার করছে দেশবিরোধী চক্রের সদস্যরা।
১৪ ঘণ্টা আগে
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন জামায়াতের এক তরুণ নেতা—এমন দাবিতে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলা টিভি’র লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিছিল দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ খেলা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেমে গেছে মুজিব সৈনিকরা।’
৪ দিন আগে