
ফিলিস্তিনে নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর দুই শিশুর মৃতদেহ তাদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, এমন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
‘Our Sylhet (Second London)’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ২০ এপ্রিল রাত ৮টা ৫৯ মিনিটে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘অতঃপর দুই মাস পরে তাদের বাড়ির ধ্বং/স/স্তূ/পের নিচে তাদের পাওয়া গিয়েছিল। ফি’লি’স্তিন গা’জা’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ওই পোস্টটিতে ২২ এপ্রিল বিকেল ৪টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ৬ হাজার রিঅ্যাকশন, ৪৮ কমেন্ট এবং ৯৯ শেয়ার রয়েছে।
ভাইরাল পোস্টগুলোর কমেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য ধরে নিয়ে কমেন্ট করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘আল্লাহ ওদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন’, কেউ লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ তুমি এর বিচার দুনিয়াতে করো’, আবার কেউ বলেছেন, ‘আহ্ জীবন 😭😭😭😭😭😭😭’। (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ড পর্যবেক্ষণে দেখা যায়—ছবির এক অংশে দুই কন্যাশিশুকে পানির বোতল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দুজনের পরনেই গোলাপি রঙের জামা। ছবির আরেক অংশে দুই শিশুর মৃতদেহের ছবি রয়েছে। তবে সেখানে কোনো সূত্র, গণমাধ্যমের নাম কিংবা ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।
ভাইরাল দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–এর একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
রয়টার্স জানায়, ছবিটির প্রথম ২০০৬ সালের মে মাসে ছবি শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লিকার–এ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ছবিটি ওই বছরের ২২ মে তোলা এবং এটি বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত ঊনবিংশ শতাব্দীতে মমি করা দুই শিশু।
ছবিটির আলোকচিত্রী ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার টানিয়া নাইট রয়টার্সকে বলেন, ছবিটি তিনিই তুলেছেন এবং এর সঙ্গে গাজার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করলেও এই ছবিটি ওই প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
টানিয়া নাইট আরও বলেন, ছবিটি বলিভিয়ার ‘কাসা নাসিওনাল ডি মোনেদা’ জাদুঘর থেকে তোলা, যেখানে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক আমলের দুই শিশুর মমি সংরক্ষিত রয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ছবিতে থাকা দুটি দেহ আসলে মমি এবং এগুলো তাদের সংগ্রহের অংশ। আনুমানিক ১৭ থেকে ১৮ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এই দেহগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
সিদ্ধান্ত
ধ্বংসস্তূপ থেকে গাজার দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি প্রকৃতপক্ষে বলিভিয়ার একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত মমির ছবি।

ভারতে মসজিদের ইমামদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢোকানো হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন—‘পশ্চিমবঙ্গে ধারণ করা ভিডিও ছাত্রলীগের মিছিল বলে ফেসবুকে প্রচার করছে দেশবিরোধী চক্রের সদস্যরা।
১১ ঘণ্টা আগে
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন জামায়াতের এক তরুণ নেতা—এমন দাবিতে মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলা টিভি’র লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মিছিল দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ খেলা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেমে গেছে মুজিব সৈনিকরা।’
৩ দিন আগে