Ajker Patrika

এত সাহস পায় কোত্থেকে?

সম্পাদকীয়
এত সাহস পায় কোত্থেকে?

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, ১ জানুয়ারি। অথচ তিন দিন পরেও থানায় মামলা হয়নি। হামলাকারীরা কড়া পাহারায় থাকায় মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন আক্রান্ত তথা ক্ষতিগ্রস্তরা।

বান্দরবানের লামা উপজেলার রেংয়েন ম্রোপাড়ায় রোববার রাতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে, ভাঙচুর করেছে, লুটপাটও চালিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শীতের রাতে হামলার সময় পাড়ার নারী-পুরুষ ও শিশুরা পালিয়ে রক্ষা পেলেও তাদের ঘরবাড়ি থেকে হামলাকারীরা কাপড়চোপড়, ছাগল, মুরগিসহ সব মালামাল নিয়ে গেছে। প্রচণ্ড শীতে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটিয়েছে পরিবারগুলো।

খবর অনুযায়ী, জমি দখলের জন্য লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি ট্রাকভর্তি লাঠিয়াল বাহিনী পাঠিয়ে পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছর ২৬ এপ্রিল তিনটি পাড়ায় ৩৫০ একর জুমের জমি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৬ সেপ্টেম্বর রেংয়েনপাড়াবাসীর পানির একমাত্র উৎস ঝিরিতে কীটনাশক ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার জন্য লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও স্থানীয় প্রশাসন কেন কোনো শক্ত ব্যবস্থা নেয় না, সে প্রশ্ন স্থানীয়রা তুলছেন।

জানা গেছে, ৫ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে ওই কোম্পানি ২৫ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। একটি কোম্পানি কীভাবে শর্ত ভঙ্গ করে লিজের জমির বাইরে গিয়ে বেআইনিভাবে দখলদারি চালাতে ম্রোপাড়াবাসীকে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারছে?

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কেন ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়ে আসছে, তারও কারণ অনুসন্ধান করা দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ম্রো জনগোষ্ঠীর পক্ষে না দাঁড়িয়ে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির পক্ষেই অবস্থান নিলে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেবেই।

ঘটনার খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেংয়েনপাড়া পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এ কথা বলাই কি শেষ কথা? ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা নিরাপত্তার কারণে থানায় অভিযোগ জানাতে সাহস না পেলে উচ্চ আদালত যেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন।

আমরা আশা করব, সরকার এ ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকায় না থেকে একটু যেন উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের এতগুলো বছর পরও ওই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা অধিকার ও মর্যাদাবঞ্চিত আছেন, এটা নিশ্চয়ই খুব আশার কথা নয়। মানুষ যেন সরকারের প্রতি আস্থা না হারায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য ম্রো জাতিসত্তার মানুষের ওপর হামলার জন্য দায়ী রাবার কোম্পানি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই লুটেরারা কি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে দেবে কোনো দিন?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত