Ajker Patrika

পিসিআর ল্যাব শিগগির চালু

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ১৭: ৩১
পিসিআর ল্যাব শিগগির চালু

বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে শিগগিরই চালু হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট ও করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব। বান্দরবানের সিভিল সার্জন অংসুই প্রু মারমা গতকাল শুক্রবার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অংসুই প্রু মারমা জানান, ইতিমধ্যে জেলা সদর হাসপাতালের জন্য করোনা পরীক্ষার সুবিধার্থে একটি আরটি-পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এটি হাসপাতালে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া মেশিন মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই বান্দরবানের জন্য আরও একটি আরটি-পিসিআর পাওয়া যাবে। এটি লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য দেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন অংসুই প্রু বলেন, আরটি-পিসিআর মেশিন বসানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকসহ কারিগরি দক্ষ কর্মীকে (টেকনিশিয়ান) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর এটি পুরোদমে চালু করা হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানে বর্তমানে আরটি পিসির ল্যাব না থাকায় জেলার করোনার নমুনা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগে। বান্দরবানে আরটি পিসিআর ল্যাব চালু হলে দিনের নমুনা দিনেই পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে দুই শয্যার আইসিইউ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না হওয়ায় এত দিন ইউনিটটি চালু করা যায়নি। সম্প্রতি বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ডা. অংসুই প্রু জানান, বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ দু-এক দিনের মধ্যে আইসিইউ ইউনিট সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবে। আইসিইউ ইউনিট চালু হলে বান্দরবানের মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা এখানেই দেওয়ার সুযোগ হবে।

জেলায় করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন বলেন, বান্দরবানে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টিকা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সরকার শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। বান্দরবানেও এ কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। বান্দরবানের দুর্গম এলাকা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা, বান্দরবানের সাংসদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রীর তত্ত্বাবধান ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পাহাড়ি এলাকায়ও করোনার টিকা গ্রহণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট প্রথম দফা গণটিকা কার্যক্রমে ২১ হাজার মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে ওই সময় প্রায় ২২ হাজার মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে ৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজেও ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এ সময় জেলার ৩৩টি ইউনিয়নে একটি করে কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বান্দরবান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কেন্দ্রে করে টিকা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে দ্বিতীয় গণটিকা কার্যক্রমে গত ২৮ অক্টোবর ৫৭ হাজার মানুষকে টিকার প্রথম ডোজে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তা সফলভাবে অর্জন হয়েছে বলে সিভিল সার্জন জানান।

ডা. অংসুই প্রু মারমা বলেন, বান্দরবানে করোনা টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়াও জেলার ৭ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও মাধ্যমে করোনার টিকা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার জেলা সদরে নিজ বাসভবন চত্বরে বান্দরবান রোটারী ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ বীর বাহাদুর সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, সাবান-হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া পরিষ্কার ও জনবহুল সমাবেশ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত