Ajker Patrika

ভেড়ার মৃত্যু, দায়ী কে?

সম্পাদকীয়
ভেড়ার মৃত্যু, দায়ী কে?

বাংলাদেশে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতির খবর এখন আর অবাক করার মতো কোনো বিষয় নয়। কত উপায়েই না প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় হয়। দেশে গত কয়েক দশকে উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে একটি সংবাদ আজকের পত্রিকায় ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।

খবর থেকে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ বিভাগের ‘সমতল ভূমিতে বসবাস করা অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রাজশাহীর তিনটি উপজেলায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় দুটি করে ভেড়া। কিন্তু বিতরণের পর থেকে উপকারভোগীদের বাগমারায় প্রায় ৪০টি, তানোর ও গোদাগাড়ীতে ১০ থেকে ১৫টি করে ভেড়া মারা গেছে। প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা ২২টি গরুও মারা গেছে।

প্রকল্পের আওতায় গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার ৪০০ করে ৮০০টি পরিবারের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ এবং বাগমারার ১১৬টি পরিবারের মাঝে ২৩২টি ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গোদাগাড়ীর ২৬৬টি এবং তানোরের ১৭০টি পরিবারের মাঝে একটি করে বকনা গরুও বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় অর্থ ব্যয় হলেও উপকারভোগীরা ঠকেছেন।

প্রকল্পের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেদিন গরু ও ভেড়া রাজশাহীতে আনে, সেদিনই সেগুলো বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীরা ভেড়া ও গরু বাড়ি নেওয়ার পরপরই সেগুলো মারা যায়। রুগ্‌ণ, হাড্ডিসার ভেড়া ও গরু তাদের দেওয়া হয়েছিল বলেই এমনটি হয়েছে।

নিত্যব্যবহার্য অনেক পণ্য কেনার পর দোকান থেকে একটা সময় পর্যন্ত সেগুলোর মেয়াদসীমার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। অথচ ওই প্রকল্পের সরবরাহ করা গরু, ভেড়া ১৪ দিনও বাঁচেনি। এর মাধ্যমে আসলে উপকারভোগীদের সঙ্গে একরকম তামাশাই করা হয়েছে।

কথা হলো, সরকার জনকল্যাণমুখী চিন্তা থেকে পিছিয়ে পড়া সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া গরু ও ভেড়া সুস্থ-সবল থাকলে সেগুলো এত দ্রুত মারা যাওয়ার কথা নয়। বিষয়টি তদারক করার দায়িত্ব তো ছিল রাজশাহী প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্তাদের। কিন্তু তাঁরা নিশ্চিতভাবে তাঁদের দায়িত্বে অবহেলা করেছেন অথবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘লেনদেনে’ জড়িয়েছেন। তাই এ ঘটনার দায় উভয় পক্ষই এড়াতে পারে না।

সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের অন্যায় বন্ধ করার অন্যতম উপায় হলো সরকারের তরফ থেকে নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা। নিয়মিত নিরীক্ষা হলে অনিয়ম ঘটার আশঙ্কা কম থাকে; তবে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নিরীক্ষায়ও গাফিলতি ও অসাধুতা থাকে না, তা নয়। যেকোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা গেলে অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হলেও হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত