Ajker Patrika

পশু খামারিদের বাঁচাতে হবে

সম্পাদকীয়
পশু খামারিদের বাঁচাতে হবে

হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পশুখাদ্যের দাম। পশুখাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রংপুরের প্রান্তিক খামারিরা। বেড়েছে খামার রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকসান হওয়ায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পশুখাদ্যের দাম না কমালে আরও বেশ কিছু খামার বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৬ জানুয়ারি আজকের পত্রিকায় ‘পশুপালনে নাভিশ্বাস, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামার’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে।

রংপুরে ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি গমের ভুসিতে ১০, বুটের খোসায় ৮, চালের খুদে ৪, দানাদার ফিডে ৬ এবং ধানের কুঁড়ায় ২ টাকা করে দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রতি বস্তা ভুসি (৩৭ কেজি) ২ হাজার ২৫০ টাকা, বুটের খোসা (২৫ কেজি) ১ হাজার ৪৫০, চালের খুদ (৫০ কেজি) ১ হাজার ৭০০, দানাদার ফিড (২৫ কেজি) ১ হাজার ৩০০ ও ধানের কুড়া (৩৫ কেজি) ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশে দফায় দফায় গরুর মাংসের দাম বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষ তো বটেই, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষও সপ্তাহে এক বেলা মাংস খেতে পারে না। এভাবে পশুখাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে এর প্রভাব গরু উৎপাদনের ওপরও পড়বে। ফলে গরুর খামারিরা পেশা বদলাতে বাধ্য হবেন, অনেকে বেকার হয়েও যেতে পারেন। পাশাপাশি গরু থেকে উৎপাদিত দুধসহ দুগ্ধজাত পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে।

দুধ পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। খাদ্য হিসেবে দুধের বিকল্প নেই। দুধ শিশুর প্রধান খাদ্য, প্রবীণের শক্তির উৎস এবং রোগীর পথ্য। তাই গোখাদ্যের দাম বাড়ানো হলে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ না করে উপায় নেই।

সংবাদ সূত্রে জানা যায়, বছরে অন্তত তিন দফায় গোখাদ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু দুধের দাম দু-তিন বছরে মাত্র একবার বাড়ে। গাভিকে খড়ের পাশাপাশি এগুলো না খাওয়ালে শরীর ঠিক থাকে না। তাই গাভি থেকে দুধ কম হয়ে থাকে।

বাংলার মানুষের মনোজগতে যে চরিত্রটি গরুকে সন্তানের মতো ভালোবাসার জন্য অমর হয়ে আছে, তা হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ গল্পের গফুর। নিজের গোচারণভূমি হিন্দু জমিদারের কাছে বেচে দিতে বাধ্য হয়েছিল গফুর। ফলে খাবারের সংস্থান না থাকায় গফুরের সন্তানতুল্য গরুটির মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একটি গরুর প্রতি গফুরের ভালোবাসার এই অসাধারণ গল্পটি বাঙালি মানসে গেঁথে আছে। যদিও জমিদারির কাল অনেক আগে গত হয়েছে, কিন্তু গরিব মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আজও আছে।

খামারিদের বাঁচাতে হলে গোখাদ্যে ভর্তুকি, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে খামারি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি, নিম্নমানের গুঁড়া দুধ আমদানি বন্ধ, গোখাদ্যের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিচার ও ভেজাল খাদ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এদিকে আশু নজর দেবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বড় ভাইসহ ডিবি হেফাজতে থাকা সবার সসম্মানে মুক্তি চাই: কাদের সিদ্দিকী

‘গ্রেপ্তার জাসদ নেতাকে থানায় সমাদর’, ওসিসহ তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

এবার কাকে বিয়ে করলেন দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত