Ajker Patrika

এই গাফিলতির মার্জনা হয় না

সম্পাদকীয়
এই গাফিলতির মার্জনা হয় না

একজন শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় শেখার জন্য এবং সেটা নিশ্চয়ই ভুল কিছু শেখা নয়। কোন বয়সের কোন শিক্ষার্থী কী শিখবে, কোন শ্রেণিতে কোন বিষয় শিখবে, কোন বই পড়বে—

এসব নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা হয়। তারপর বই রচনা করা হয়। যাঁরা পাঠ্যবই রচনার সঙ্গে যুক্ত হন, তাঁরা নিশ্চয়ই অভিজ্ঞ বলেই কাজটি করেন। একজন মানুষের সর্বোচ্চ ডিগ্রি থাকলেই তাঁকে ডেকে নিয়ে পাঠ্যবই লিখতে বসিয়ে দেওয়া হয় না। আবার বইটি সম্পাদনার সঙ্গেও একাধিক মানুষ জড়িত থাকেন। পাঠ্যবই নিয়ে হেলাফেলার সুযোগ নেই এ কারণে যে, এগুলো পড়েই শিক্ষার্থীরা জানবে, শিখবে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। কিন্তু বইয়ে যদি ভুল তথ্য থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কি আলোকিত হবে, নাকি অন্ধকারে পথ হাতড়াবে?

প্রশ্নটি উঠছে, এবার স্কুলের পাঠ্য বই নিয়ে কিছু খবর পড়ে। স্কুলশিক্ষার্থীদের বছরের প্রথম দিন বিনা মূল্যে নতুন বই উপহার দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলেও এবার বইয়ের মান ও গুণাগুণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সব শিক্ষার্থীর হাতে এবার প্রথম দিন সব বই দেওয়াও সম্ভব হয়নি। কারণ, সব বই ছাপা-বাঁধাইয়ের কাজ ঠিক সময়ে শেষ হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, কিছু কিছু বইয়ে আছে নানা ধরনের ভুলত্রুটি।

বুধবারের আজকের পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান শিরোনাম ‘নতুন বইয়ে পুরোনো ভুল’। খবরটিতে যেসব ভুলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যি মেনে নেওয়ার মতো নয়। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতেই যে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনযজ্ঞ বা জেনোসাইড শুরু করেছিল, সেটা জানা নেই, এমন মানুষ কীভাবে পাঠ্যবই লেখার দায়িত্ব পান? সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও বা এটা কীভাবে নজর এড়িয়ে যায়? রাজারবাগ পুলিশ লাইনসকে পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরকে ইপিআর ক্যাম্প বানানো রীতিমতো মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়।

ভুল ও বিকৃত তথ্য ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বানান ও ব্যাকরণগত ভুলের ছড়াছড়ি দেখা যায়। তথ্যগত ভুলগুলোকে ইতিহাস বিকৃতি বলছেন শিক্ষক ও ইতিহাসবিদেরা। তাঁদের মতে, এনসিটিবির খামখেয়ালিপনায় প্রতিবছরই এসব হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলভাবে উপস্থাপনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৯ নভেম্বর এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যকে তলব করেন হাইকোর্ট। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আলমগীর আলম পাঠ্যপুস্তকের ভুলের বিষয়ে রিট আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্যকে তলব করা হয়।

এত কিছুর পরও পাঠ্যবইয়ে ভুলের বিষয়টি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আসেনি, সেটা ভাবতেও অবাক লাগে। আবার নজরে আসার পরও সংশোধনের বিষয়ে যদি গাফিলতি করা হয়ে থাকে, তা-ও মার্জনা করার মতো নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত