Ajker Patrika

আয় কমে গেছে রিকশায়

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩: ৩৩
আয় কমে গেছে রিকশায়

করোনার প্রভাব ও লকডাউন কাটিয়ে অনেকটা স্বাভাবিক বান্দরবানের অবস্থা। তারপরও যাত্রীর অভাবে অলস সময় পার করছেন অনেক রিকশা চালক। দিনের আয় দিয়ে রিকশা ভাড়া, দৈনিক খরচ দিয়ে হাতে তেমন কিছুই থাকে না। শহরের রিকশা চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কয়েকজন রিকশা চালক বলেন, করোনার বেশি থাকার সময় রিকশা চালানোর সুযোগ থাকলেও মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতেন তা। তাই খুবই কম আয় হতো। দিনে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো।

এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলেও আয় তেমন বাড়েনি। যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। শহরে ইজিবাইক (টমটম) চলাচল করায় মানুষ এখন রিকশায় কম চড়তে চায়। কাছের পথ হলে তখন যাত্রীরা রিকশায় ওঠেন।

অধিকাংশ চালক মেসে থাকেন, থাকাও খাওয়া বাবদ ১২০ টাকা দিতে হয়।

রিকশা চালক ফিরোজুল বলেন, আগে রিকশা চালিয়ে দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো। রিকশা ভাড়া ও দৈনিক খাবার খরচ বাদ দিয়ে যা থাকত তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু করোনায় প্রায় দেড় বছর আয় একেবারে কমে যায়, দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো। এখনো আমাদের আয় তেমন বাড়েনি।’

রিকশা চালক রাসেল বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমাদের আয় বাড়বে আশা করেছিলাম। কিন্তু আয় তেমন বাড়েনি। এখন দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। রিকশা ভাড়া ৮০ টাকা, নিজে দৈনিক মেসে খাবার বাবদ ১২০ টাকা, আবার চা-নাশতা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। দিন শেষে হাতে আর কিছুই থাকে না।

রিকশা চালক সুনীল বলেন, ‘যেদিন ৩০০ টাকা আয় হয়, সেদিন খরচ বাদে হাতে তেমন কিছু থাকে না। যেদিন ৫০০ টাকা আয় হয় সেদিন টাকা পরিবারকে পাঠাতে হয়। এভাবে রিকশা ভাড়া ও নিজের বাদে মাস শেষে ৬-৭ হাজার টাকা থাকে। তা দিয়ে ৪-৫ পরিবার চালানো সম্ভব না।’

রিকশা চালক সাইফুল বলেন, ‘এখন আগের তুলনায় শহরে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। বান্দরবানে পর্যটক আসলেও বেশির ভাগই উপজেলাগুলোতে চলে যান। যাঁরা জেলা শহরে থাকেন, তাঁরাও টমটমে করে ঘুরে বেড়ায়। এতে করে আমাদের আয় আগের চেয়ে কমে গেছে।’

রিকশা মালিক সমিতির নেতা আবুল মনসুর বলেন, জেলা সদরে প্রায় ৩০০ রিকশা বর্তমানে চলাচল করছে। পুরোনো রিকশা প্রতিদিন ভাড়া ৭০ আর নতুন হলে ৮০ টাকা। এই ভাড়াও অনেক সময় চালকেরা দিতে পারেন না। তাঁদের আয় কম বলে প্রায়ই ভাড়া বাকি রাখেন।

আবুল মনসুর বলেন, ‘প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে নতুন রিকশা বানানোর পর দৈনিক ৮০ টাকা করে ভাড়া তুলে কবে বিনিয়োগ তুলব, তারপর লাভের মুখ? এ ছাড়া রিকশা মেরামতেও টাকা ব্যয় হয়। দৈনিক ৮০ টাকা হারে মাসে ২ হাজার ৪০০ টাকাও অনেক সময় আদায় হয় না।’

স্থানীয় যাত্রী এমরান বলেন, তুলনামূলকভাবে ভাড়া রিকশায় বেশি আদায় করা হয়। আবার অনেক সময় চালকেরা ভাড়া নিয়ে যেতে গড়িমসি করেন। মানুষ তাই রিকশার বদলে টমটমের প্রতিই আগ্রহী। এ ছাড়া রিকশা চালকদের আচরণও সন্তোষজনক নয় বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

এ সব বিষয়ে রিকশা মালিক আবুল মনসুর বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ইঞ্জিন চালিত টমটমের সঙ্গে প্যাডেল চালিত রিকশার ভাড়ার তুলনা চলে না। অনেক সময় যাত্রীও চালকের সঙ্গে তুই-তোকারি আচরণ করেন। তবে মালিকদের থেকে সব সময় চালকদের বলে দেওয়া হয়, যাত্রীরা হলেন ‘লক্ষ্মী’। তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করতে ও ন্যায্য ভাড়া নিতে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সেই মেরুন টি-শার্ট পরা হামলাকারীর পরিচয় জানালেন প্রেস সচিব

বাসররাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নববধূ, স্বামীসহ আটক ৭

যশোরে চায়ের দোকানে বসে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকে বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

‘ইউএস ব্র্যান্ড এখন টয়লেটে’—ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক নিয়ে জেক সুলিভানের ক্ষোভ

মেয়েকে ১০ মাস আটকে রেখে ধর্ষণ, মা ও সৎবাবা গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত