Ajker Patrika

ধান কাটা ও ছাত্রলীগ

সম্পাদকীয়
ধান কাটা ও ছাত্রলীগ

এ রকম কি প্রায়ই ঘটে? সব সময় তা সংবাদ হয় না, নাকি এ ধরনের ঘটনা বিরল? গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বর্গাচাষি শাহাবুদ্দীন তাঁর খেতের ধান কাটতে পারছিলেন না টাকার অভাবে।

ধান পেকে ঝরে পড়ছিল। এ কথা জেনে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা খেত থেকে ধান কেটে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। ঘটনাটি ছোট, আজকের পত্রিকায় ছাপাও হয়েছে ছোট করে, কিন্তু তার তাৎপর্য অনেক।

যে সময় ছাত্রলীগের নাম এলেই তার সঙ্গে সহিংসতা, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ইত্যাদির কথাই বেশি করে উঠে আসে, সে সময় এ ধরনের একটি উদ্যোগের সঙ্গে ছাত্রলীগ যুক্ত হচ্ছে, এ তো ভাবাই যায় না। বহুদিন ধরে ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সেই ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রকোপ দেখা যায়। ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার কথা তো হামেশাই শোনা যায়। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষও কখনো কখনো ছাত্রলীগের দাপটে তটস্থ থাকে। সে রকম বাস্তবতায় একজন গরিব কৃষকের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে গেছেন যাঁরা, তাঁরা ছাত্রলীগেরই সদস্য!

এটাই তো ছাত্রসংগঠনের দায়িত্ববোধের পরিচায়ক। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেলে তাতে সমাজে তাঁদের মর্যাদাও বাড়ে। তাঁরা যে এই সমাজেরই সন্তান, সমাজের ভালো-মন্দে তাঁরাই এগিয়ে আসেন, এটাই তো সুখকর সংবাদ। কিন্তু এর উল্টো চিত্রটাই বেশির ভাগ সময় দেখা যায়।

ছাত্রদের সংগঠন মূলত ছাত্রদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করবে—এমনটাই ছিল ছাত্রসংগঠন গঠনের মূল কারণ। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা এলে ছাত্ররা বেশির ভাগ সময়ই ন্যায্য দাবির আন্দোলনে শরিক হয়েছেন, রাজপথ দখল করে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন; বিশেষ করে আমাদের ভাষা আন্দোলন, শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলনে ছাত্রসমাজের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করা যায়। ঐতিহাসিক প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা জাতীয় আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল কাজ পড়াশোনাকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি ভালো নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। তারই একটা উদাহরণ কৃষকের পাশে এসে দাঁড়ানো।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, রাজনৈতিক উত্তরণের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ ছিল নিবিড়। কিন্তু সেই ঐতিহ্য আজ বিভিন্ন কারণেই ম্লান হয়ে পড়েছে। মূল রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি, অন্যায়ভাবে ক্ষমতা উপভোগ করা, পেশিশক্তিকেই ক্ষমতার উৎস হিসেবে ভাবা—এসবই এখন ছাত্রসংগঠনের পোস্টার হয়ে গেছে।

ছাত্রসংগঠনে মানবিকতার চাষবাস করা খুবই প্রয়োজনীয় ব্যাপার। এটাই তো নিজেকে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে নেওয়ার মূল সময়। সুবিধাবাদ, অর্থের প্রতি লোভ, ক্ষমতা প্রদর্শনের ছাত্ররাজনীতির ইতি ঘটবে খুব দ্রুত—এমন আশাবাদের কোনো কারণ নেই। এখনো রাজনৈতিক আবহ সে রকম মানুষ গড়ে তোলার সহায়ক নয়।

তারপরও বলতে হয়, এ রকম ছোটখাটো সুকাজের নজির সৃষ্টি হলে তা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে মানবিক দিকে মানুষকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই এ ছোট ঘটনাটি আমাদের অনেক বড় এক আশার ইঙ্গিত দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত