সম্পাদকীয়
চেনা দৌলতদিয়া যে অচেনা হয়ে গেল, তাতে বহুদিন ধরে এই পথে চলাচলকারী মানুষের অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে উঠতে পারেন।একটা সময় দৌলতদিয়া ঘাট ছিল খুবই কর্মব্যস্ত। বছরের পর বছর পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঘাট অনেক নিরন্ন মানুষের বাড়িতে অন্ন জুগিয়েছে। পদ্মা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা দৌলতদিয়া, সিঅ্যান্ডবি ঘাট, আরিচা, পাটুরিয়া, গোয়ালন্দ ইত্যাদি নাম একটি জনপদের গতিশীল চলাচলের স্মৃতি বহন করে চলেছে। কিন্তু নতুন ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এখন এই নদীপথগুলো, ঘাটগুলো তাদের জৌলুশ হারিয়েছে।
আজকের পত্রিকার বরিশাল সংস্করণে এ-সংক্রান্ত একটি খবর বের হয়েছে। উন্নয়নের কিছু যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তা তাতে স্পষ্ট হয়েছে।
৫০ পার হওয়া মানুষেরা জানেন, একসময় কী জমজমাটই না ছিল এসব ঘাট। স্বাধীনতা লাভের পরপর ঢাকা থেকে যখন আরিচা ঘাটে যাওয়া হতো, কিংবা অন্যদিক থেকে ঢাকায় আসা হতো, তখন পথে পড়ত বেশ কয়েকটি ফেরি। তখনো নয়ারহাট, তরার ঘাটে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ঢাকা থেকে আরিচা ঘাটে পৌঁছানোর আগেই এ দুটি ঘাটে যানবাহনের বিরাট সারি পড়ে যেত। এরপর আরিচায় এসে পদ্মা পাড়ি দেওয়া। ফেরিঘাটে যাত্রীদের সেবা করার জন্য পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল কত-না দোকানপাট; বিশেষ করে খাবারের রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে একের পর এক। ভাজা ডিমের অপূর্ব গন্ধ অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টেনে নিয়ে যেত রেস্তোরাঁর দিকে। সে সময় সত্যিকারের পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেত এসব রেস্তোরাঁয়। বহুদূর থেকে ভেসে আসত সেই মাছের ঘ্রাণ।
একই দৃশ্য ছিল পদ্মার অপর পাড়েও। দৌলতদিয়া ঘাটেও একই রকমভাবে গড়ে উঠেছিল রেস্তোরাঁ। অনেকেরই মনে পড়ে যাবে, এই আরিচা থেকেই উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল নগরবাড়ী ঘাট হয়ে যাওয়া। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাওয়ার পর সে নদীপথটি এখন ম্রিয়মাণ। কিছুদিন আগে পদ্মা সেতু হওয়ার পর সড়কপথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়ে গেছে। তাতে ঐতিহ্যবাহী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের চলমান জীবনে এসেছে স্থবিরতা।
চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। ফলে পাড়সংলগ্ন রেস্তোরাঁর ব্যবসায় নেমেছে ধস। এ ছাড়া নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক ব্যবসা-বাণিজ্যও ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছোট নদীর ওপর ছোট একটি সেতুও যোগাযোগব্যবস্থার অসাধারণ উন্নতি ঘটায়, অন্যদিকে তা সেই নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রাণচাঞ্চল্যে বাধা দেয়। বন্ধ হয়ে যায় খেয়া পারাপার, পাশের চায়ের দোকান, ফলের দোকান। ঝালমুড়ি বিক্রেতার ব্যবসা পড়ে সংকটে। বড় নদীর ওপর সেতু হলে তো কথাই নেই।
এটাই রীতি। নতুন এলে পুরোনোর প্রয়োজন ফুরায়। নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু মানব মনে তো তার ছায়া পড়েই। জানতে ইচ্ছে করে, নদীর ঘাটে বেঁচে থাকার সংগ্রামে যুক্ত এই মানুষেরা এখন কেমন আছেন? কী করে চলছে তাঁদের জীবনযাত্রা?
চেনা দৌলতদিয়া যে অচেনা হয়ে গেল, তাতে বহুদিন ধরে এই পথে চলাচলকারী মানুষের অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে উঠতে পারেন।একটা সময় দৌলতদিয়া ঘাট ছিল খুবই কর্মব্যস্ত। বছরের পর বছর পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঘাট অনেক নিরন্ন মানুষের বাড়িতে অন্ন জুগিয়েছে। পদ্মা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা দৌলতদিয়া, সিঅ্যান্ডবি ঘাট, আরিচা, পাটুরিয়া, গোয়ালন্দ ইত্যাদি নাম একটি জনপদের গতিশীল চলাচলের স্মৃতি বহন করে চলেছে। কিন্তু নতুন ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এখন এই নদীপথগুলো, ঘাটগুলো তাদের জৌলুশ হারিয়েছে।
আজকের পত্রিকার বরিশাল সংস্করণে এ-সংক্রান্ত একটি খবর বের হয়েছে। উন্নয়নের কিছু যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তা তাতে স্পষ্ট হয়েছে।
৫০ পার হওয়া মানুষেরা জানেন, একসময় কী জমজমাটই না ছিল এসব ঘাট। স্বাধীনতা লাভের পরপর ঢাকা থেকে যখন আরিচা ঘাটে যাওয়া হতো, কিংবা অন্যদিক থেকে ঢাকায় আসা হতো, তখন পথে পড়ত বেশ কয়েকটি ফেরি। তখনো নয়ারহাট, তরার ঘাটে সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ঢাকা থেকে আরিচা ঘাটে পৌঁছানোর আগেই এ দুটি ঘাটে যানবাহনের বিরাট সারি পড়ে যেত। এরপর আরিচায় এসে পদ্মা পাড়ি দেওয়া। ফেরিঘাটে যাত্রীদের সেবা করার জন্য পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল কত-না দোকানপাট; বিশেষ করে খাবারের রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে একের পর এক। ভাজা ডিমের অপূর্ব গন্ধ অপেক্ষমাণ যাত্রীদের টেনে নিয়ে যেত রেস্তোরাঁর দিকে। সে সময় সত্যিকারের পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেত এসব রেস্তোরাঁয়। বহুদূর থেকে ভেসে আসত সেই মাছের ঘ্রাণ।
একই দৃশ্য ছিল পদ্মার অপর পাড়েও। দৌলতদিয়া ঘাটেও একই রকমভাবে গড়ে উঠেছিল রেস্তোরাঁ। অনেকেরই মনে পড়ে যাবে, এই আরিচা থেকেই উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল নগরবাড়ী ঘাট হয়ে যাওয়া। যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাওয়ার পর সে নদীপথটি এখন ম্রিয়মাণ। কিছুদিন আগে পদ্মা সেতু হওয়ার পর সড়কপথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়ে গেছে। তাতে ঐতিহ্যবাহী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের চলমান জীবনে এসেছে স্থবিরতা।
চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। ফলে পাড়সংলগ্ন রেস্তোরাঁর ব্যবসায় নেমেছে ধস। এ ছাড়া নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক ব্যবসা-বাণিজ্যও ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছোট নদীর ওপর ছোট একটি সেতুও যোগাযোগব্যবস্থার অসাধারণ উন্নতি ঘটায়, অন্যদিকে তা সেই নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রাণচাঞ্চল্যে বাধা দেয়। বন্ধ হয়ে যায় খেয়া পারাপার, পাশের চায়ের দোকান, ফলের দোকান। ঝালমুড়ি বিক্রেতার ব্যবসা পড়ে সংকটে। বড় নদীর ওপর সেতু হলে তো কথাই নেই।
এটাই রীতি। নতুন এলে পুরোনোর প্রয়োজন ফুরায়। নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু মানব মনে তো তার ছায়া পড়েই। জানতে ইচ্ছে করে, নদীর ঘাটে বেঁচে থাকার সংগ্রামে যুক্ত এই মানুষেরা এখন কেমন আছেন? কী করে চলছে তাঁদের জীবনযাত্রা?
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫পাকিস্তানে ভারতের হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনও এই হামলাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘও। উত্তেজনা যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ। এদিকে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করেছে...
০৮ মে ২০২৫