Ajker Patrika

বহিষ্কার হচ্ছেন ‘বিদ্রোহীরা’

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২: ০৬
বহিষ্কার হচ্ছেন ‘বিদ্রোহীরা’

বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে চার ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় চারজনকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা কমিটি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর তাঁদের চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে।

গত মঙ্গলবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাস গতকাল বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

লক্ষ্মীপদ দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন, দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ এর ১১ ধারা মোতাবেক তাঁদের দল থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সহসভাপতি আবদুর রহিম চৌধুরী, একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) লক্ষ্মীপদ দাস, মোজাম্মেল হক বাহাদুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যসাপ্রুসহ জেলা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সভায় লামার ৭ ইউনিয়ন ও নাইক্ষ্যংছড়ির ২ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সভায় ডাকা হলেও তাঁরা সভায় আসেননি বলে লক্ষ্মীপদ দাস স্বীকার করেছেন।

গত মঙ্গলবার ছিল লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্ধারিত তারিখে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় রাতেই জরুরি সভা করা হয়।

জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়িতে বাইশারী ইউপিতে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলমকে ও দোছড়িতে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমরানকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন না পেয়ে বাইশারীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর ও দোছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হাবিব উল্লাহ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন।

এদিকে লামা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেনকে। এই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আক্তার কামাল। তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় নূর হোছাইনকে। এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাস বলেন, ওমর ফারুক দল থেকে মনোনয়ন চায়নি, নিজেই প্রার্থী হয়েছেন। তবে যেহেতু তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদে রয়েছেন, তাই তাঁকেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য দুই উপজেলায় ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। লামায় জেলা কমিটির সহসভাপতি আবদুর রহিম চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যসাপ্রু-কে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। একইভাবে নাইক্ষ্যংছড়িতে জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. শফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাহাদুরকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

জেলা কমিটির সহসভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, দলীয়ভাবে একজনই চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন, অন্য যাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের দলে থাকার আর কি অধিকার থাকতে পারে! একই ধরনের বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কমিটির সহসভাপতি আবু তাহের।

এদিকে জেলা কমিটিতে থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চার ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত