
রাশিয়ার আমুর বা সাইবেরিয়ান বাঘ রক্ষার দীর্ঘ ও নাটকীয় সংগ্রামের ভেতরের গল্পটি তুলে ধরেছে নতুন একটি বই। ‘টাইগার্স বিটুইন এম্পায়ার্স’ নামের এই বইটি লিখেছেন বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী জনাথন স্ল্যাগট। এতে উঠে এসেছে বিশ্বের দীর্ঘতম বাঘ গবেষণা কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত ‘সাইবেরিয়ান টাইগার প্রজেক্ট’–এর ইতিহাস, সাফল্য ও সংকট।
বইটি লেখার প্রেক্ষাপট নিয়ে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সিএনএন লিখেছে—২৫ বছরের বন্ধুত্বে সহকর্মী ডেল মিকুয়েলের মুখে ‘একদিন এ নিয়ে বই লিখব’ কথাটি বহুবার শুনেছিলেন স্ল্যাগট। কিন্তু সেই বই আর লেখা হয়নি। অবশেষে ২০২১ সালে স্ল্যাগট নিজেই উদ্যোগ নেন। চার বছর পর ৫১২ পৃষ্ঠার এই বইয়ে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমুর বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ায় প্রায় তিন হাজার বাঘ থাকলেও ১৯৩০-এর দশকে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩০ টিতে। পরে শিকার নিষেধাজ্ঞা ও সংরক্ষিত এলাকা গড়ে ওঠায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দারিদ্র্য ও অবৈধ শিকারের কারণে আবারও বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ঠিক সেই সময় শুরু হয় সাইবেরিয়ান টাইগার প্রজেক্ট।
এই প্রকল্পে মার্কিন বিজ্ঞানীরা অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা দেন, আর রুশ সংরক্ষণবিদেরা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান। রেডিও ও জিপিএস কলার ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো বাঘের চলাচল, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনচক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। প্রকল্প চলাকালে ১১৪টি বাঘ ধরা ও ছাড়া হয়। এর মধ্যে ‘ওলগা’ নামের একটি বাঘকে ১৩ বছর ধরে অনুসরণ করা হয়—যা গবেষকদের কাছে তাকে শুধু গবেষণার নম্বর নয়, এক জীবন্ত চরিত্রে পরিণত করে।
দেখা গিয়েছিল—প্রকল্পটির প্রথম এক দশকে যতগুলো বাঘ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, তার ৭৫ শতাংশই ছিল চোরাশিকারের ফল। স্ল্যাগট লিখেছেন, বাঘের জীবন মোটেও শান্ত বা রোমান্টিক নয়—বরং সহিংস জীবন তাদের।
ওই প্রকল্পের গবেষণার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল নতুন সংরক্ষিত এলাকা। এর ফলে সুরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়। তবে ২০১০ সালের পর বিদেশি সংস্থার ওপর রুশ সরকারের সন্দেহ বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর অনেক আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংস্থা দেশটিতে নিষিদ্ধ হয়।
রাশিয়ার সরকার বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি করলেও আইইউসিএন-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের সংখ্যা এখন ২৬৫ থেকে ৪৮৬-এর মধ্যে, যা স্থিতিশীল হলেও ঝুঁকিমুক্ত নয়। স্ল্যাগটের মতে, পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। তবে এটি একটি সাফল্য, যা টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত নজরদারি ও আন্তর্দেশীয় সহযোগিতা অপরিহার্য।

রাজধানী ঢাকাসহ আজ রোববার সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দেশের অন্যান্য স্থানে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা সামান্যই।
২১ ঘণ্টা আগে
আজ সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলের আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন। আবহাওয়ার সকাল ৭টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২ দিন আগে
দিনভর রোদের ভ্যাপসা গরমের পর বিকেলে আচমকা ঝুম বৃষ্টি কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকটা অস্বস্তিতে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের টানা বর্ষণে দুর্ভোগ দেখা দেয় খোলা আকাশের নিচে কর্মব্যস্ততায় ছুটে চলা মানুষের। আর সেই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী...
২ দিন আগে
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল ছাড়া বাকি ৭ বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে খুলনায়। এদিন ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও পাশের জেলায় টাঙ্গাইলে যার পরিমাণ ছিল ৩৭ মিলিমিটার। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বৃষ্টি হয়েছে ৪৮ মিলিমিটার।
৩ দিন আগে