
আজ মারা গেছেন ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’খ্যাত টালিউড পরিচালক অনীক দত্ত। এই নির্মাতার শেষ সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ দিয়ে টালিউডে অভিষেক হয় বাংলাদেশের কাজী নওশাবা আহমেদের। অনীক দত্তের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ নওশাবা। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করার পুরোটা সময় কাঁদলেন এই অভিনেত্রী। জানালেন, অনীক দত্তের সঙ্গে তাঁর ছিল বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্ক।
কাজী নওশাবা বলেন, ‘অনীক দত্ত আমার কাছে শুধু একজন পরিচালক ছিলেন না। আমাদের সম্পর্ক ছিল বাবা-মেয়ের মতো। আমার বাবার মৃত্যুর পর অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। ওই সময়ে ফেসবুকে আমার আব্বুকে নিয়ে চিঠি লিখতাম। ওই চিঠিগুলো পড়ে যত কাণ্ড কলকাতাতেই সিনেমায় আমাকে অডিশনের জন্য ডেকেছিলেন অনীক দত্ত। আমাকে বলতেন, তোমার চিঠিগুলো পড়লে আমার মেয়েকে খুব মিস করি। তাই শুরু থেকেই আমাদের সম্পর্কটা ডিরেক্টর-আর্টিস্টের মতো ছিল না। ছিল বাবা-মেয়ের মতো। পিতৃস্থানীয় একটা জায়গা পেয়েছিলাম। আমাকে প্রচণ্ড স্নেহ করতেন। সিনেমার কাজ শেষ হয়ে গেলেও আমাদের প্রায়ই কথা হতো। নিয়মিত আমার খোঁজ নিতেন।’
অনীক দত্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নওশাবা বলেন, ‘আমাকে যখন যত কাণ্ড কলকাতাতেই সিনেমায় চূড়ান্ত করা হলো, সে সময় অনেকে তাঁর কাছে নানা কথা বলতেন। নওশাবা বাংলাদেশের অনেক বড় অভিনেত্রী না, ভিউ নেই, টিআরপি নেই, লিডরোলে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই—এমন কথা বলা হতো তাঁকে। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। বলতেন, এই মেয়েকে অডিশন দিয়ে ফাইনাল করেছি। সে চরিত্রটির জন্য একদম পারফেক্ট। অনেকবার তাকে বলতে শুনেছি—আমার কাছে স্টার মেটার করে না, চরিত্রটি মেটার করে।’

নওশাবা আরও বলেন, ‘অনীক দত্তের মতো আর কেউ আমার ওপর এভাবে বিশ্বাস করেনি। আমার আব্বুর মৃত্যুর পর যখন নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলাম, সেই সময়ে আমার জীবনে অনীক দত্তের আগমন। তিনি আমাকে নিজের উপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। উনার সঙ্গে কাজ করার সময় সত্যজিৎ রায়কে জানা, উপেন্দ্রকিশোরকে জানা, ক্ল্যাসিকাল মিউজিক নিয়ে আলাপ করা। অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে।’
যত কাণ্ড কলকাতাতেই সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নওশাবা বলেন, ‘শুটিংয়ের সময় অনীক দত্ত খুব অসুস্থ ছিলেন। মাঝে মাঝে সেটে আসতে পারতেন না। সে সময় ফোনে আমাকে মোটিভেট করতেন। বলতেন, ভয় পাবে না। আবীর চট্টোপাধ্যায় অনেক বড় স্টার। কিন্তু তুমি আমার চোখে স্টার। তুমি আমার এই সিনেমার প্রাণকেন্দ্র। একদম ঠান্ডা মাথায় অভিনয় করে যাও। তাঁর বিশ্বাস ছিল, আমি অভিনয় দিয়ে অনেক দূর যাব। প্রায় সময়ই আমাকে বলতেন, তুমি নিয়মিত সিনেমা কেন করছো না? ভালো চরিত্র কেন পাচ্ছ না?’
অনীক দত্তের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন বাংলাদেশের। তাই যতকাণ্ড কলকাতাতেই সিনেমাটি বাংলাদেশেও মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। মুক্তি উপলক্ষে কুমিল্লাতেও যেতে চেয়েছিলেন এই নির্মাতা—এমনটাই জানালেন নওশাবা।
অভিনেত্রী বলেন, ‘উনার আদি বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লায়। উনার স্বপ্ন ছিল যত কাণ্ড কলকাতাতেই সিনেমাটি বাংলাদেশে মুক্তি দিবেন। সে সময় তাঁর আদিবাড়ি কুমিল্লাতে যাবেন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সিনেমাটি বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুক্তির এক সপ্তাহ আগেও আমাকে বলছিলেন—নওশাবা সিনেমাটি কি বাংলাদেশে রিলিজ দেওয়া যায়! তাহলে আমি বাংলাদেশে আসতাম। কুমিল্লা যেয়ে একটু ঘুরেও আসতাম। মা-বাবার মুখে সেখানকার অনেক গল্প শুনেছি, কিন্তু যাওয়া হয়নি।’

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ধারাবাহিক নাটক পরিচালনায় ফিরছেন নির্মাতা সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য তিনি নির্মাণ করছেন ‘তবুও জীবন’ নামের নাটক। লম্বা বিরতির পর ধারাবাহিক নির্মাণের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন পারিবারিক গল্প। পরিচালনার পাশাপাশি নাটকটি রচনা করেছেন তিনি। সম্প্রতি শুরু হয়েছে শুটিং।
২১ ঘণ্টা আগে
অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক, শিক্ষকসহ নানা পরিচয় জুড়ে আছে গাজী রাকায়েতের নামের সঙ্গে। ১৫ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে তাঁর। বিশেষ এই দিনটি উদ্যাপন করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
২১ ঘণ্টা আগে
প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলার পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মালয়ালম মেগাস্টার মোহনলালের বহুল আলোচিত ক্রাইম-থ্রিলার সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’। ১৮ জুন থেকে আমাজন প্রাইমে সিনেমাটির স্ট্রিমিং শুরু হবে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসছে।
২১ ঘণ্টা আগে
আবার পর্দায় ফিরছে পুঁচকে মেয়ে লিলো আর তার পোষা ভিনগ্রহী প্রাণী স্টিচের গল্প। গত বছর লাইভ-অ্যাকশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর সিকুয়েলের ঘোষণা দিল ডিজনি। জানাল পরিচালকের নাম।
১ দিন আগে