Ajker Patrika

ঢাবির সেই বাহালুলের মৌখিক নিয়োগ স্থগিত, তাঁর অফিসে কর্মচারীদের অবস্থান

ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাবির সেই বাহালুলের মৌখিক নিয়োগ স্থগিত, তাঁর অফিসে কর্মচারীদের অবস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরীর মৌখিকভাবে নিয়োগ দেওয়া ৪২ জনের নিয়োগ স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক ও অযৌক্তিক’ অভিহিত করে আজ বুধবার বেলা ২টা থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করছেন তাঁরা। 

কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সময় মৌখিকভাবে ৫৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন বাহালুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া বাজারদরের চেয়ে কম দামে পছন্দের ব্যক্তির কাছে পুরোনো কাগজ বিক্রি, অধিভুক্ত কলেজের প্রবেশপত্র ফি নগদে গ্রহণ ও লেনদেনে অস্বচ্ছতাসহ বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গেলে কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিষয়ে তথ্য চায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও হিসাব পরিচালক দুদকের চিঠির জবাবও দিয়েছেন। গত বছরের ২২ অক্টোবর দৈনিক আজকের পত্রিকায় ‘নিয়মের ধার ধারেন না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

এরপরই ওই মৌখিক নিয়োগ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

আন্দোলনরত মো. সুমন মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা মৌখিকভাবে ৫৩ জন নিয়োগ পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে ১১ জনের নিয়োগ হয়ে গেছে, বাকি ৪২ জনকে গতকাল (মঙ্গলবার) বলা হয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। আমরা এখন কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক অবস্থানকারী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে, আমাদের পরে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমরা মুখের কথায় আর বিশ্বাস করছি না। লিখিতভাবে না জানানো পর্যন্ত আমরা অবস্থান থেকে সরে যাব না।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) মো. ছানাউল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য আমাদের কন্ট্রোলার স্যার (বাহালুল) তাঁদের মৌখিকভাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁদের বলছি, নিয়ম মাফিকভাবে যখন নিয়োগ হবে তখন আপনাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ 

নিয়োগ স্থগিত করার প্রতিবাদে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অবস্থান নিয়েছেন কর্মচারীরাবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের জনবলের প্রয়োজন, সেটি আমরা নিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে চাই। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোন কিছু আমরা করব না। তাই তাদের মৌখিক নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।’ 

এর আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য জানাজায় অংশ না নেওয়ায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকে ‘প্রতিবাদী মোনাজাত’ করে আলোচনায় আসেন বাহালুল হক চৌধুরী। 

মোনাজাতে বাহালুল বলেন, ‘ভিসি-প্রোভিসি কেউ জানাজায় যাননি। ও আল্লাহ, তুমি দেখো। আল্লাহ গো, এই এতিম বাচ্চা নিয়ে আমি আসছি। কিচ্ছু চাই না, কোনো দাবি-দাওয়া নাই। জানাজায় আসার দরকার নাই, আমি আপনার (উপাচার্য) চাকরি করব না।’ 

এই ঘটনার পর আর অফিসে আসেননি বাহালুল। বাহালুলের পরিবার জানিয়েছে, তিনি অসুস্থ, বর্তমানে চিকিৎসাধীন। 

এর মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিতে না পারায় ‘অনুপস্থিত’ দেখিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার স্বাক্ষরিত এক অফিসে আদেশে পরীক্ষা উপ-নিয়ন্ত্রক মো. ছানাউল্লাহকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত