Ajker Patrika

অপহরণ করে বিয়ের চাপ, অসম্মতিতে অ্যাসিডে ঝলসে দিতে চেয়েছিলেন মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
অপহরণ করে বিয়ের চাপ, অসম্মতিতে অ্যাসিডে ঝলসে দিতে চেয়েছিলেন মুখ

স্কুলে আসা যাওয়ার পথে মেয়েটিকে বিরক্ত করতেন আবু জার গিফারী ওরফে গাফফার (৩৫)। তার পরিবারকে বিয়ের জন্য নানাভাবে চাপ ও হুমকি দিচ্ছিলেন। অস্বীকৃতি জানালে অপহরণ করে বিয়ে করার হুমকি দেন। গত ৩ মার্চ ঝিনাইদহ আদালত চত্বরে অপহরণের পরিকল্পনা করেন গাফফার। ৫ মার্চ শৈলকুপা শহরে কোচিং সেন্টার থেকে ফেরার পথে মেয়েটিকে অপহরণ করেন গাফফার ও তাঁর সহযোগীরা। 

ওই ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবুজার গিফারী গাফফারকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

এ নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

র‍্যাব জানায়, অপহরণের পর মেয়েটিকে ৩০ ঘণ্টা ঢাকাসহ চারটি জেলায় ঘুরিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। রাজি না হওয়ায় অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। যাতে আর মেয়েটির বিয়ে না হয়। ভুক্তভোগীর বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গাফফারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‍্যাব-৬ ও র‍্যাব-৪-এর যৌথ অভিযানে মানিকগঞ্জের সদর থানা এলাকা থেকে আবু জার গিফারী ওরফে গাফফারকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। দুই সহযোগী হলেন—রাজবাড়ীর সাব্বির হোসেন (২২) ও হাফিজুর রহমান (৪৬। 

গ্রেপ্তার গাফফার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়েছেন। আইন পেশায় যুক্ত তিনি। 

খন্দকার আল মঈন জানান, ওই শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ পেয়ে যশোর বোর্ডে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। ২০১৯ সাল থেকে গাফফার মেয়েটিকে হয়রানি করছেন। গাফফারের যন্ত্রণায় মেয়েটি প্রাইভেট ও স্কুলে যেতে পারত না। গাফফারের কারণে একবার বাসাও পরিবর্তন করে তার পরিবার। গত ৫ মার্চ বিকেলে ওই ছাত্রী এক সহপাঠীর সঙ্গে প্রাইভেট শেষে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিল। এ সময় গাফফার রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। 

গাফফারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে খন্দকার মঈন জানান, অপহরণের শিকার শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী। এসএসসিতে খুব ভালো ফলাফল করায় গাফফারের আশঙ্কা হয়, মেয়েটি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মূলত এ কারণেই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। অপহরণের পর প্রথমে রাজবাড়ীতে এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান ওই ছাত্রীকে। সেখানে নতুন দুজন সহযোগীসহ ছাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। সেখানে আশ্রয় না পেয়ে মাইক্রোবাস যোগে সিলেটে নিয়ে যান। 

সিলেটে মেয়েটির অবস্থান পরিবার জেনে যাওয়ায় সেখান থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। এর মধ্যে গাফফার মেয়েটিকে অ্যাসিড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো আওয়াজ না করার হুমকি দেন। এরপর মানিকগঞ্জ থেকে তাঁকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাফফারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহের বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। 

মেয়েটিকে অপহরণ করে চারটি জেলায় ৩০ ঘণ্টা ঘোরানোর পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন তাঁদের ধরতে পারল না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার মঈন বলেন, ‘অপহরণের পর মামলা কিংবা কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলার পর র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে অভিযান চালিয়ে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।’ 

মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয় ৮-১০ জন দেখার পরেও কোনো বাধা দেননি। র‍্যাবের এই কর্মকর্তা তাঁদের ধিক্কার দিয়ে বলেন, ‘স্থানীয়দের উচিত ছিল সেখানে তাঁদের বাধা প্রদান করা। এতে করে মেয়েটিকে অপহরণ করতে পারতেন না গাফফার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত