Ajker Patrika

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সর্বাধিক মূল্যস্ফীতি হবে দ. এশিয়ায়, কমবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও: এডিবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২: ০০
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সর্বাধিক মূল্যস্ফীতি হবে দ. এশিয়ায়, কমবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও: এডিবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির দিক থেকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। এমনটি জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন এক বছরের বেশি স্থায়ী হলে ২০২৬-২৭ সময়ে উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট, আর মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার দৃশ্যপটে ২০২৬-২৭ সময়ে এই অঞ্চলের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক ৮ শতাংশ কমে যেতে পারে, যা তুলনামূলকভাবে মাঝারি হলেও মূল্যস্ফীতির চাপ হবে সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত, যা পুরো অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এডিবির মতে, সংঘাতের প্রভাব মূলত পড়ছে জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন, বাণিজ্য বাধা এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হয়ে ওঠার মাধ্যমে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের আমদানি-নির্ভরতার মাত্রা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণের নীতির ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব ভিন্ন হবে। তবে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করবে। এডিবি ধরে নিয়েছে যে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাময়িক হবে এবং বাজার স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসবে। কিন্তু উৎপাদক পর্যায়ের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকায় মূল্যস্ফীতির পতন প্রাথমিক বৃদ্ধির তুলনায় কম হবে। অর্থাৎ দাম বাড়ে লিফটে চড়ে, নামে সিঁড়ি দিয়ে, মানব সভ্যতার প্রিয় অর্থনৈতিক রীতি।

যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি হ্রাস পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় কম, তবু উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাস্তবে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায়, দারিদ্র্য বাড়ায় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেছেন, সরকারগুলোর উচিত বাজারের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা বাড়াতে পারে এমন নীতি গ্রহণ করা। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকারগুলোকে দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে, আর্থিক সহায়তা হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে বাজারের অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে সম্ভব জ্বালানির চাহিদা কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি মূল্য, আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ মিলিয়ে অঞ্চলটির অর্থনীতির জন্য আগামী দুই বছর কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত