বাজেট বাস্তবায়নের মাঝপথ পেরোতেই সরকারের ঋণনির্ভরতা পেয়েছে নতুন মাত্রা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিকে ধীরগতিতে এগোলেও রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রবণতা আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, মার্চ পর্যন্ত মাত্র ৯ মাসেই সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৫০ কোটি টাকার বেশি নিট ঋণ নিয়েছে, যেখানে পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে পৌঁছানোর আগেই নির্ধারিত লক্ষ্য অতিক্রম করেছে ঋণ গ্রহণ। একই সময়ে মোট নিট ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকায়, যা গত বছরের জুন শেষে ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। ফলে ৯ মাসেই ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাড়তি ঋণনির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে শিল্প, বাণিজ্য ও উৎপাদনমুখী খাতে নতুন বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে উঠবে, যার প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, ভর্তুকির চাপ, পরিচালন ব্যয় এবং ব্যাংক একীভূতকরণে মূলধন সহায়তা—এ সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ঋণনির্ভরতা বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও ব্যয় বাড়ানোর একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতার চিত্র আরও স্পষ্ট। মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, যা গত জুনে ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে এই উৎস থেকেই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ওভারড্রাফট খাতে ঋণের পরিমাণ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা আগের অর্থবছরে ছিল না। এ ছাড়া ওয়েজ অ্যান্ড মিনস অ্যাডভান্স খাতে স্থিতি রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম মনে করেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলোও ঝুঁকিমুক্ত আয় নিশ্চিত করতে সরকারকে ঋণ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে এতে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়বে এবং দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের বাইরে থেকেও সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে মার্চ পর্যন্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও এ মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, রাজস্ব আয় প্রত্যাশামতো বাড়ছে না অথচ উন্নয়ন ব্যয় ও ভর্তুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতায় ঋণনির্ভরতা কমানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, আয়ের উৎস না বাড়িয়ে ব্যয় বাড়াতে থাকলে তা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য মূলধন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি বাজেট নথি অনুযায়ী, ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়ার কথা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সামনের মাসগুলোতে অর্থায়নের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) না আসায় একমাত্র রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পরিশোধনের মতো সেখানে কোনো তেল আর অবশিষ্ট নেই। রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, শুধু মেশিন ওয়ার্মআপে রাখা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সরকার পরিবহন খাত সামনে রেখে আসন্ন বাজেটে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহনে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন যানবাহন রাস্তায় নামাতে শুল্ক ও করকাঠামোয় সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
১ ঘণ্টা আগে
দেশে এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি। ইউনিট বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এর শীর্ষে রয়েছে সেবা খাত। তবে ইউনিট বৃদ্ধির তুলনায় কর্মসংস্থান বাড়েনি। দেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও তা মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সেবা খাতনির্ভর।
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শরুর পর বাংলাদেশে সরকার জ্বালানি তেল রেশনিং শুরু করে। তবে এই রেশনিংয়ের আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এবং তাদের অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অব্যবস্থাপনার কারণে হোঁচট খায় জ্বালানি খাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে...
২ ঘণ্টা আগে