
নতুন বছরের শুরুতেই ক্রেতা-ভোক্তাদের জন্য সুখবর আসছে চালের বাজার থেকে। নতুন মৌসুমের আমন ধানের সরবরাহে পাইজাম, গুটি, স্বর্ণা, ব্রি-২৮, শম্পা কাটারিসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমেছে। সবজির বাজারে স্বস্তি বাড়িয়েছে হরেক রকম শাক।
রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) বলছে, অধিকাংশ চাল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ধরনভেদে এ সময় চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে পাইজাম, আটাশসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম।
বিক্রেতারা বলছেন, এবার সরকারের গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই বাজার থেকে সরকার ধান-চাল কিনছে ধীরগতিতে। এ ছাড়া আমনের উৎপাদনও ভালো এবং আমদানি বেড়েছে। ফলে চালের দাম কমেছে।
রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৫০-৫৪ টাকা। ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৬ টাকা কেজি। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাইজামে কমেছে কেজিতে ২ টাকা ও নতুন আটাশ চালের দাম কমেছে ৩ টাকা। জিরাশাইল, শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৮২ টাকায়। এসব চালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমেছে। তবে মিনিকেট, কাটারি নাজির, জিরা নাজিরসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম বেড়েছে।
রাজধানীর মানিকনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মরিয়ম রাইস স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, আমন মৌসুমের ধান থেকে যে চালগুলো আসে, সেগুলোর দাম অনেকটাই কমেছে। আরেকটু কমতে পারে। তবে কিছু চাল রয়েছে বোরো মৌসুমের ধান থেকে আসে। সেগুলোর দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে তা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। কারণ, অন্যান্য চালের সরবরাহ বেড়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, গত বছরের তুলনায় গুটি, স্বর্ণাসহ মোটা চালগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে। এ ছাড়া পাইজামসহ মাঝারি মানের চালগুলোর দাম কমেছে ৮ শতাংশ। শম্পা কাটারিসহ কিছু কিছু সরু চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম বাবু বলেন, এখন চালের বাজার অনেকটাই নমনীয়। ইতিমধ্যে কোনো কোনো অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও শুরু হয়েছে। যদি বোরো ধানে বড় ধরনের বিপর্যয় না হয়, তবে এ বছর চালের বাজার অস্থির হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই।
গত ১৭ ডিসেম্বরের হিসাবমতে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি গুদামগুলোয় ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। চাল ছাড়া ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, আটা, ময়দা, চিনিসহ প্রায় সব ধরনের মুদিপণ্য গত সপ্তাহের দামে স্থির রয়েছে। এ ছাড়া সবজি, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে স্বস্তি রয়েছে। সবজির বাজারে স্বস্তি বাড়িয়েছে হরেক রকম শাক।
বাজারে ডাঁটা, লাল, মুলা, পালং, লাউ, সরিষা, কলাইসহ হরেক রকম শাক পাওয়া যাচ্ছে এখন। এসব শাকের দামও অনেকটা কমেছে। বাজারে লাউশাক ছাড়া বাকি সবগুলোর আঁটিই মিলছে ৫-১৫ টাকায়।
ফার্মের মুরগির বাদামি ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১৫ টাকা ডজন। ডিমের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামের মধ্যে রয়েছে। ফার্মের মুরগির মধ্যে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের দাম আরও একটু কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে; গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৫-৬৫ টাকা। তবে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ কিনতে এখনো ৬৫-৭০ টাকা লাগছে। বাজার থেকে ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে পুরোনো আলু। নতুন আলুর দামও কমে ২০-২৫ টাকা কেজিতে নেমেছে।

দেশে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। এবার সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা দাম বেড়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা।
১ ঘণ্টা আগে
পদত্যাগ করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি বিশ্ব। এরই মধ্যে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। এ সংঘাত এখন শুধু এই তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও জড়িয়ে পড়ায় পুরো অঞ্চল...
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে শেয়ার বাজারের পতন ঘটেছে।
৩ ঘণ্টা আগে