Ajker Patrika

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় আবারও রোগীর মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় আবারও রোগীর মৃত্যু

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দুই দফা বাধার মুখে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবারও রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামের ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

মৃত জমশেদ আলী ঢালী শরীয়তপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত ১৪ আগস্ট অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার মুখে জেলার বাইরের একটি অ্যাম্বুলেন্স অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে না পারায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হোতা সবুজ দেওয়ানকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পারিবারিক সূত্র বলেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পেরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। সিন্ডিকেটের হয়রানি এড়াতে হাসপাতাল চত্বর থেকে রোগীকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

তবে বিষয়টি টের পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট চক্রের ১০-১২ জন সদস্য জেলা সদরের প্রেমতলা এলাকায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে প্রায় ৪০ মিনিট পর গাড়িটি ছাড়া পেলেও জাজিরা উপজেলার জামতলা এলাকায় আবারও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি আটকে রাখা হয়। এ সময় হান্নান, সুমন, সজীব, সুজনসহ কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য অ্যাম্বুলেন্সের চালককে মারধর করেন।

দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৪৫ মিনিট পর স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি ছাড়া পায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় বিকেল ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই জমশেদ আলীর মৃত্যু হয়। পরে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতে মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা শরীয়তপুরে ফিরে পালং মডেল থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন।

ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. সালমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে রোগী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটকে দুই থেকে চার হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া রোগী নিলে তারা বাধা দেয়। জমশেদ আলীকে নেওয়ার সময় দুই জায়গায় আমাদের আটকে রাখা হয় এবং মারধর করা হয়। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়।’

মৃত জমশেদের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, ‘সিন্ডিকেটের লোকজন আমাদের নানাকে ঢাকায় নিতে দেয়নি। তাদের বাধা ও হামলার কারণে নানা মারা গেছেন। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ফোনে চালককে অনুমতি ছাড়া রোগী তোলার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।

শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই মোল্লা বলেন, ‘রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। যদি আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তবে এটি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত