Ajker Patrika

বিসিএসআইআর: ভোটের পর ঝুলে গেছে টেন্ডার

  • বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের রাজশাহী গবেষণাগারের দরপত্র
  • বরাদ্দ ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, কাজ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১ মার্চ
  • দরপত্র জমা পড়েছে ৪৬টি, মূল্যায়ন হয়নি ২০ দিনেও
  • ময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ১৪
বিসিএসআইআর: ভোটের পর ঝুলে গেছে টেন্ডার
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ রাজশাহী।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের রাজশাহী গবেষণাগারের একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয় গত ১৫ জানুয়ারি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টা পর্যন্ত দরপত্র জমা নেওয়া হয়। ৪৭টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কেনে। শেষ পর্যন্ত ৪৬টি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে টেন্ডার বা দরপত্র দাখিল করে। একই দিন বিকেল ৪টায় সেগুলো খোলা হয়। শুরু হয় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া।

সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে এ ধরনের মূল্যায়ন শেষ হয়। কিন্তু ২০ দিনেও এটির কোনো গতি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র বলছে, মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আটকে যায় পুরো প্রক্রিয়া। নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেলেও রাজনৈতিক ডামাডোলে কোটি টাকার এই দরপত্র এখনো ঝুলে আছে মূল্যায়ন টেবিলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দরপত্র দাখিলকারী একজন ঠিকাদার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। সাধারণত দুই থেকে তিন দিন বা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়। কিন্তু এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হচ্ছে। মাত্র ৪৬টি নথি মূল্যায়নে এত বেশি সময় লাগে না। এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমাদের আশঙ্কা, পছন্দের কাউকে কাজ দিতে এটা করা হচ্ছে।’

নথিপত্র অনুযায়ী, গবেষণাগার ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি ভবনের বাইরের অংশ মেরামত ও রং করা হবে। করিডরের আরসিসি রেলিং মেরামত ও রং করা হবে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পুরোনো পাইপ খুলে নতুন পাইপ বসানো হবে। ভবনের সামনের অংশে স্থাপন করা হবে নতুন জানালা। কাজের জন্য মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, কাজ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১ মার্চ। কাজ শেষ করার সময়সীমা ১ জুন। অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে পুরো সংস্কারকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু মূল্যায়ন

শেষ না হওয়ায় কার্যাদেশ জারি হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি ধরে কাজ শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কাজ শুরুর বিষয়টি পিছিয়ে গেলে স্বভাবতই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একজন ঠিকাদার বলেন, ‘এই কাজে যেহেতু বাজেট বেশি, তাই এটি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে। এখানে ৪৬ জন দরপত্র দাখিল করলেও অর্ধেকের বেশি নন-রেসপনসিভ (অযোগ্য) হয়ে যাবে। কিন্তু সেটাও ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না। আমার ধারণা, কোনো অযোগ্য ঠিকাদারকে কাগজপত্র ঠিক করতে সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাকে কাজ দেওয়া যায়।’

বিসিএসআইআরের রাজশাহী গবেষণাগারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস জামান বলেন, ‘১ ফেব্রুয়ারিতেই টেন্ডার ওপেনিং হয়ে গেছে। আমাদের এখন দরপত্র মূল্যায়ন করতে সময় লাগছে। কাগজপত্র সবকিছু সঠিকভাবে যাচাই করছি, যাতে যোগ্য ব্যক্তি কাজ পান। এটি করতে গিয়ে দেরি হচ্ছে। আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত